logo
Advertisement

গবেষণায় চুরির অভিযোগে পদত্যাগ করা কেমব্রিজের সেই অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার

দ্য গার্ডিয়ান
গবেষণায় চুরির অভিযোগে পদত্যাগ করা কেমব্রিজের সেই অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেসন আর্ডে। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণায় ‘মেধাস্বত্ব চুরি’ (প্লেজিয়ারিজম) নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করা ঐতিহ্যবাহী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেসন আর্ডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় দক্ষিণ লন্ডনের বাড়ি থেকে এই কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষকের মরদেহটি উদ্ধার করার কথা নিশ্চিত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘৪১ বছর বয়সি এক ব্যক্তিতে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার নিকটাত্মীয়দের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন।

আপাতত আর্ডের মৃত্যুকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এই ঘটনাকে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন না কর্মকর্তারা। মেট্রোপলিটন পুলিশের সেন্ট্রাল সাউথ কমান্ড ইউনিটের কর্মকর্তারা মামলাটি তদন্ত করছেন। ময়নাতদন্তকারীর জন্য একটি ফাইল প্রস্তুত করা হবে।

আর্ডের বাড়িতে একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। অ্যাম্বুলেন্স চালকই পুলিশকে খবর দেন যে, একজন ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা দেন। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আর্ডের পরিবার জানিয়েছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের পদে যোগদানের পর থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে কোনো চেষ্টাই বাদ রাখেনি সংশ্লিষ্টরা।

পরিবার আরও জানায়, একপর্যায়ে গবেষণায় ‘মেধাস্বত্ব চুরি’র ভুল তথ্যের প্রচারণা আর্ডের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। তিনি ছিলেন একজন অমায়িক মানুষ এবং সবসময় অন্যদের ভালো দিকটি দেখার চেষ্টা করতেন।

তার মৃত্যু নিয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পরিবার।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, ‘জেসন আর্ডের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি এক অগ্রহণযোগ্য প্রকাশ্য হয়রানি ও গালিগালাজ অভিযানের শিকার হয়েছিলেন। আমি জানি, আজ সন্ধ্যায় লন্ডনের অনেক বাসিন্দা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত থাকবেন।’

এর আগে, গবেষণায় ‘মেধাস্বত্ব চুরি’র অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোসিওলজি অব এডুকেশন’-এর অধ্যাপক ও একই সঙ্গে জেসাস কলেজের ফেলো পদ থেকেও অব্যাহতি নেন জেমস আর্ডে। তার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরুর পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।

সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জেসন আর্ডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। সম্প্রতি তার পিএইচডি থিসিসের কিছু অংশ অন্য গবেষকদের কাজ থেকে নকল করার অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে, কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন আর্ডে। সামাজিকভাবে জনসমক্ষে অপমান ও নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন তিনি। হয়তো তার বিরুদ্ধে তোলা ‘অভিযোগটি সাজানো’ ছিল। নিয়মিত অপমান সইতে না পেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

এদিকে তার মৃত্যুর খবরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। কেমব্রিজের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরা প্রেন্টিস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই মর্মান্তিক খবর শুনে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। এই চরম দুঃসময়ে জেসন আর্ডের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল।’