logo

ফিলিস্তিনিদের হেবরনের বাড়ি ছাড়তে ৫ মিনিটের আল্টিমেটাম ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনিদের হেবরনের বাড়ি ছাড়তে ৫ মিনিটের আল্টিমেটাম ইসরায়েলের
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের দক্ষিণে আল-রিফাইয়া গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ফিলিস্তিনিরা তাদের জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। ছবি: এএফপি

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে সাম্প্রতিক এক সংঘাতের পর ফিলিস্তিনিদের ওপর চরম নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার স্থান ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে ভারী বুলডোজার এনে একের পর এক ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) উচ্ছেদের শিকার স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঠিক আগে অধিবাসীদের কেবল আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিটের চরম সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

সাধারণত যে কোনো হামলার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইনি পরোয়ানা জারি বা আপিল করার আনুষ্ঠানিক সুযোগ দিয়ে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হেবরনের ক্ষেত্রে সেটির কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অতি দ্রুততার সাথে অধিবাসীদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে এসব উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) পুরোপুরি বিলুপ্ত করার দাবি তুলেছেন।

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এসব বেপরোয়া ভাঙচুরকে ‘অনুমতিহীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ’ বলে সাফাই গাইছেন। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের থাকার জন্য নতুন ঘরবাড়ি তৈরির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইসরায়েল সরকার কখনোই দেয় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে নির্বাচন থাকায় ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিবিদরা এই সংঘাতকে নিজেদের ফায়দা হাসিলে কাজে লাগাচ্ছেন। সাধারণ ও নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন চরম শক্তি প্রয়োগ এবং ভিটেমাটি ধ্বংসের মাধ্যমে তারা কট্টরপন্থি ভোটারদের কাছে নিজেদের ‘কঠোর শাসক’ হিসেবে তুলে ধরার প্রতিযোগিতা চালাচ্ছেন।

এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ‘সন্দেহভাজন’ ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই সেনা নিহত হওয়া কথা নিশ্চিত করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ওই হামলায় আহত হন আরও তিন ইসরায়েলি সেনা। হেবরন শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি সামরিক চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে।

এর জবাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে পুরো পশ্চিম তীরে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের’ প্রস্তুতি নিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিবিসি কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সেনা ও বন্দুকধারীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে।