ইরানি গণমাধ্যমে সমঝোতার দাবি, ওয়াশিংটন বলছে ‘বানোয়াট’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি সমঝোত স্মারক প্রস্তত হচ্ছে। খসড়া চুক্তি অনুসারে, ইরানের আশপাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক বাহিনীকে সরিয়ে নেবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। বিনিময়ে এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান।
তবে শান্তি চুক্তি নিয়ে ইরানের প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউস। ওয়াশিংটন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ‘সত্য নয় এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট’।
বুধবার (২৭ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর খসড়া হাতে পেয়েছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু হবে এবং মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান ঘটবে।
তথ্যমতে, ওই কাঠামো অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরিয়ে আনবে।
আইআরআইবি জানিয়েছে, খসড়া চুক্তিতে সামরিক জাহাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা ও পথনির্দেশনা ইরান ওমানের সহযোগিতায় পরিচালনা করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হলে, এই ব্যবস্থাটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদিত হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তথাকথিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের কাঠামোকে এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে উল্লেখ করে বলেছে, বাস্তবতা যাচাই-বাছাই ছাড়া তেহরান কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
হোয়াইট হাউসের র্যাপিড রেসপন্স ৪৭ অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক সংক্রান্ত ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সেটিকে ‘সত্য নয়’ এবং ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
পোস্টটিতে ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনের লিংক দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তির জন্য একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।
ফক্স বলেছে, প্রস্তাবটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রধান রেড লাইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কিত দাবির পাশাপাশি জব্দকৃত ২০ বিলিয়ন ডলার তহবিল ছাড়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
র্যাপিড রেসপন্স ৪৭ এক্স-এ লিখেছে, ইরান-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদনটি ‘সত্য নয়’ এবং তাদের ‘প্রকাশিত’ সমঝোতা স্মারকটি একটি ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বিষয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যা প্রচার করছে, তা কারোই বিশ্বাস করা উচিত নয়।
This report from Iranian controlled media is not true and the MOU they “released” is a complete fabrication. Nobody should believe what Iranian state media is putting out. FACTS MATTER. https://t.co/agpTnBSgKu
— Rapid Response 47 (@RapidResponse47) May 27, 2026

