‘ট্রাম্প তাদের পোষা কুকুরের মুখ বন্ধ করতে না পারলে শিক্ষা দেবে ইরান’

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
‘ট্রাম্প তাদের পোষা কুকুরের মুখ বন্ধ করতে না পারলে শিক্ষা দেবে ইরান’
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বামে), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মাঝে) ও আব্বাস আরাঘচি (ডানে)। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের ‘মৃত মানব’ মন্তব্য করায় দুই দেশের মধ্যে রীতিমতো বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কাটজের মন্তব্যের জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে কোনো হুমকির ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তেল আবিবে তার পোষা প্রাণীদের (কুকুর) মুখ বন্ধ রাখতে না পারেন, তাহলে ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে।

বুধবার (০১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্য এক্সে দেওয়া এক পোস্ট এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ‘তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার শর্ত সবার জন্য উন্মুক্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবে তাদের পোষা প্রাণীদের (কুকুর) মুখ বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যদি তারা তাদের প্রভুর কথা না শোনে, ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে কোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।’

এর আগে সোমবার সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেব না। যদি আলোচনার মাধ্যমে তা ঠেকানো যায়, সেটিই ভালো।’

ইরান আবার হামলা চালালে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে কাটজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানে অংশ নিক বা না নিক, ইসরায়েল নিজেই জবাব দেবে। তিনি বলেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালাবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

কাটজ আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) প্রস্তুত রয়েছে এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনায় দুই দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেন। তবে বুধবারের কারিগরি বৈঠকে তাদের সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা ছিল না।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আলোচনায় মূল গুরুত্ব পাচ্ছে ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিষয়।

অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বৈঠকে সমঝোতা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়, বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আরাঘচি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা বাস্তবায়নের তদারকি এবং ভবিষ্যত চূড়ান্ত চুক্তির প্রস্তুতির জন্য কার্যকরী দল গঠন করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।

সূত্র: ওয়াইনেট