কলম্বিয়া সীমান্তে ভেনেজুয়েলার বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৯

কলম্বিয়া সীমান্তের কাছে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (ইএলএন) একটি শিবিরে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর বোমা হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) কলম্বিয়ার রেডিও স্টেশন ব্লু রেডিও এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সীমান্তবর্তী ভেনেজুয়েলার আপুরে রাজ্যের বুয়েনা ভিস্তা দেল মেটা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভেনেজুয়েলার সাবেক আইনপ্রণেতা হুয়ান ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া এসকালোনা এ হামলার তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আপুরে অঞ্চলে মানবাধিকার সংগঠন ফুনদারেদেসের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, ওই এলাকায় সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ পেয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজ্যের রাজধানী সান ফার্নান্দো দে আপুরেতে নেওয়া হয়েছে। আরও ১০ জনের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট না হলেও কয়েকজন আহত ব্যক্তি সীমান্ত পেরিয়ে কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ব্লু রেডিও জানিয়েছে, স্থানীয় পুয়ের্তো পায়েজের বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে পাওয়া কয়েকজনের নাম ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার মানবাধিকারকর্মী ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোসিও সান মিগুয়েলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বুয়েনা ভিস্তা দেল মেটায় ইএলএন শিবিরে কথিত বোমা হামলার খবর উল্লেখ করেছেন।
সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
গার্সিয়া এসকালোনার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সম্প্রদায় পশ্চিম বলিভার রাজ্যের লস পিহিহুয়াওস এবং মেটা-ওরিনোকো নদীর সীমান্তবর্তী পাসো দেল বুরো এলাকায় সংঘর্ষের খবর জানিয়েছেন।
তিনি এসব সংঘর্ষের পেছনে বক্সাইট ও কোলটানের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলনের এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধকে দায়ী করেছেন।
এদিকে, ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার কথিত এই বোমা হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি বলে জানিয়েছে ব্লু রেডিও।
তবে হামলার প্রকৃত ঘটনা, হতাহতের সংখ্যা এবং নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

