যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে রাজি ইসরায়েল ও লেবানন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হবে তখনই, যখন হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে সংগঠনটির সব সদস্যকে সরিয়ে নেবে।
বুধবারের আলোচনার পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল সরকার সম্প্রতি লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের হুমকি দেওয়ার পর এই সমঝোতা সামনে এলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারত। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তারপরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
বুধবারের বৈঠক প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে চলে। এর আগে মঙ্গলবারও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে দিনব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইসরায়েল ও লেবানন আগামী ২২ জুনের মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উভয় দেশ দ্রুত পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চল (পাইলট জোন) গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব এলাকা কেবল লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না। তবে এসব অঞ্চল কবে চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
বিবৃতি অনুযায়ী, ইসরায়েল পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তাদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবাননজুড়ে সংগঠনটির সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা।
অন্যদিকে লেবানন বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি পারস্পরিক সম্মান এবং যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও পূর্ণ সার্বভৌমত্বের নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
লেবানন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, মার্কিন সহায়তায় তারা নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, যাতে দেশের পুরো ভূখণ্ডে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, তারা লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, যাতে বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং লেবাননের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দেশজুড়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়।
এছাড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ড বিশেষ করে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া এবং অন্যান্য আগ্রাসী পদক্ষেপেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে অন্তত ৩ হাজার ৫১৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। আর জাতিসংঘ জানিয়েছে, লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিবন্ধন করেছেন।
আর ইসরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে সীমান্তের উভয় পাশে তাদের ২৬ জন সেনা ও চার ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
