Advertisement

ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্যে মেয়ে বললেন ‘আর কতক্ষণ লাগবে, খেতে হবে’

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্যে মেয়ে বললেন ‘আর কতক্ষণ লাগবে, খেতে হবে’
বাবার শেষকৃত্যে উপস্থিত হননি, ভিডিও কলে দেখলেন শবদাহ। ছবি: সংগৃহীত

তিন মেয়েকে শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করতেই কেটেছে পুরোটা জীবন। কিন্তু জীবনের শেষ দিনগুলোতে সেই বাবার পাশে ছিলেন না কেউ-ই। আকস্মিক মৃত্যুর পরও বাবার শেষকৃত্যে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি তিন বোন। দেশে অবস্থান করেও ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিডিও কলে শবদাহ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন তারা। তবে একজন ছিলেন নেপালে।

ঘটনাটি ভারতের হরিয়ানার সোনিপতের। সেখানকার একটি বৃদ্ধাশ্রমে দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কাপড় ব্যবসায়ী শিবচরণ রাম রতন গুপ্ত।

সংবাদমাধ্যমের ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মূলত মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ও সাবেক এই ব্যবসায়ী তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে গত দুই বছর ধরে সোনিপতের বৃদ্ধাশ্রমটিতে আশ্রিত ছিলেন।

মৃত্যুর খবর পেয়েও মেয়েরা দূরত্বের অজুহাতে সোনিপতে পৌঁছাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশেষে বৃদ্ধাশ্রম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণবাবু তার তিন মেয়েকে সুশিক্ষিত করেছিলেন এবং তাদের সাফল্য নিয়ে তিনি সবসময় গর্ববোধ করতেন। তার দুই মেয়ে পেশায় শিক্ষিকা, আরেকজনও সুপ্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বড় মেয়ে অনিতা নেপালে, মেজো মেয়ে নিশা উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে এবং ছোট মেয়ে প্রিয়া মুম্বাইয়ে নিজেদের পরিবার নিয়ে থাকেন।

আনন্দ কুমার আক্ষেপ করে বলেন, ‘বৃদ্ধাশ্রমে রাখা ফোন দিয়ে উনি প্রায়ই মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। কিন্তু উনি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মেয়েদের ফোন দেওয়া কমে যায়। মৃত্যুর ২০ দিন আগে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতির কথা জানানো হলেও কোনো মেয়ে তাকে দেখতে আসেননি।’

মৃত্যুর পরও যখন আসা সম্ভব নয় বলে জানান মেয়েরা, তখন লাইভ ভিডিও কলের মাধ্যমে শবদাহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সময় নেপালে থাকা বড় মেয়ে অনিতা শেষকৃত্যের খরচ বাবদ অনলাইন মাধ্যমে ৫ হাজার ১০০ রুপি পাঠান।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর আকুতি জানানোর পাশাপাশি এক মেয়েকে ফোনে বিরক্তি প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, ‘এতে আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের তো এবার খেতে এবং স্নান করতে যেতে হবে।’

শুরুর দিকে তিন মেয়ে অনুরোধ জানান যে, শবদাহ শেষ হলে বাবার চিতাভস্ম যেন বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে রাখেন।। তবে পরে সোনিপতে আসার সময় নেই বলে জানিয়ে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকেই সেই চিতাভস্ম গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার অনুরোধ করেন তারা।