logo

দুর্নীতি মামলায় নতুন বিতর্ক, মিডিয়া সুবিধা চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু

দুর্নীতি মামলায় নতুন বিতর্ক, মিডিয়া সুবিধা চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় চলমান ভয়াবহ হামলার মধ্যেই দুর্নীতির মামলায় আবারও আদালতে হাজির হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চলমান এই বিচারে এটি ছিল নেতানিয়াহুর ৮৮তম আদালত উপস্থিতি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানী তেলআবিব জেলা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিতে উপস্থিত হন তিনি। তবে এবার নতুন করে বিতর্কের তৈরি হয়েছে। কারণ, ২০০০ নম্বর মামলায় তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যম থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আদালতে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর ‘নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যস্ততা’র কারণে বিচারকরা মঙ্গলবারের শুনানি সংক্ষিপ্ত করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিন ১০০০ ও ৪০০০ নম্বর মামলার জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর আদালতে ২০০০ নম্বর মামলার বিষয়ে আলোচনা হয়।

২০১৯ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে দায়ের করা অভিযোগপত্রগুলোতে নেতানিয়াহু ১০০০, ২০০০ এবং ৪০০০ নামে পরিচিত তিনটি মামলায় দুর্নীতি, ঘুষ এবং প্রতারণার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। ১০০০ নম্বর মামলাটি দায়ের হয়, নেতানিয়াহু ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা এবং সহায়তার বিনিময়ে ধনী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দামি উপহার নিয়েছেন।

২০০০ নম্বর মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ইতিবাচক সংবাদ প্রচারের বিনিময়ে নেতানিয়াহু দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রকাশক আরনন মোজেসের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। মামলা ৪০০০-এ অভিযোগ করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইতিবাচক প্রচারের বিনিময়ে ইসরায়েলি সংবাদ ওয়েবসাইট ওয়ালা-র প্রাক্তন মালিক ও টেলিযোগাযোগ সংস্থা বেজেক-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শাউল এলোভিচকে নিয়ন্ত্রক সুবিধা দিয়েছিলেন।

২০২০ সালে বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে নেতানিয়াহু দোষ স্বীকার করতে অস্বীকার করে আসছেন। অভিযোগগুলোকে ‘তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার না করা পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট তাকে ক্ষমা করতে পারবেন না।

অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির মামলার পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে অভিযুক্ত। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের যুদ্ধে গাজা উপত্যকায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু