logo
Advertisement

সৌদিতে ১১ কোটি টন বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান

রয়টার্স
রয়টার্স
সৌদিতে ১১ কোটি টন বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান
ইউরেনিয়াম মৌলের প্রতীক, পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা সম্বলিত একটি ব্লক। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনের ৭০তম নিয়মিত অধিবেশনে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান এ তথ্য প্রকাশ করেন। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মন্ত্রী জানান, মদিনার জাবাল সাইয়িদ এলাকায় পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে ভারী বিরল খনিজ উপাদানের উচ্চ ঘনত্ব শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন এই মজুতের খবর সামনে এলো। গত ২২ জুলাই মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমানের স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয়।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগের মতে, চুক্তিগুলো কয়েক দশকজুড়ে বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।

প্রিন্স আবদুল আজিজ বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি প্রতিষ্ঠান মাআদেন ও মার্কিন কোম্পানি এমপি ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও ইউরেনিয়াম নিয়ে সহযোগিতার জন্য একটি কৌশলগত কাঠামোও তৈরি করা হয়েছে।

এই কাঠামোর আওতায় সৌদি আরবে একটি নতুন বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করবে। মাআদেন ৫১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক অংশীদারত্ব ধরে রাখবে এবং এমপি ম্যাটেরিয়ালস অংশীদার হিসেবে যুক্ত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিরল খনিজ খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিচালনা করছে।

বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম মজুতের সম্ভাবনা

মদিনা অঞ্চলে জেদ্দার প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাইয়িদকে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের সম্ভাবনাময় মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক বিশ্লেষণে সৌদি শিল্প ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মাআদেনের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মজুতের সম্ভাব্য আকারের দিক থেকে জাবাল সাইয়িদের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এলাকায় ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো ভারী বিরল খনিজের মজুত প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল খনিজের সম্ভাব্য মজুত প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের এই বিপুল সমন্বিত মজুত সৌদি আরবের নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি চক্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসব কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির পথও তৈরি হতে পারে।