মার্কিন বিমানের দখলে ইসরায়েলি এয়ারপোর্ট, বাতিলের শঙ্কায় ২৪ লাখ টিকিট

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান রাখাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে প্রায় ২৪ লাখের বেশি বিমান টিকিট বাতিল হওয়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে ইসরায়েল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, মার্কিন বিমান সরিয়ে নিতে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ রোববার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একটি চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যদি মঙ্গলবারের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোর অর্ধেক সরিয়ে নেওয়া না হয়, তাহলে আমরা ২০ লাখেরও বেশি নাগরিককে জানিয়ে দেব যে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে রোশ হাশানাহ উপলক্ষে ব্রাটসলাভ হাসিদদের উমান (রাশিয়া/ইউক্রেন সীমান্তবর্তী শহর) ভ্রমণও অন্তর্ভুক্ত।
চিঠিতে বলা হয়, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বর্তমানে ৭২টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান পার্ক করা রয়েছে, যা পার্কিং স্পেসের অর্ধেকেরও বেশি দখল করে আছে এবং বিমান চলাচলের স্লট সীমিত করে দিয়েছে। এতে বিমান চলাচলে জট সৃষ্টি হয়ে নিয়মিত ফ্লাইটে বিলম্ব ঘটছে।
এছাড়া দক্ষিণ ইসরায়েলের এইলাতের রামন বিমানবন্দরেও আরও ২৬টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান রাখা হয়েছে, যা সেখানে পার্কিং সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ দখল করে রেখেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
সংকটের মধ্যেও মন্ত্রী মিরি রেগেভের ব্যক্তিগত ভ্রমণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গত মাসে দু’বার ব্যক্তিগত ছুটিতে লন্ডন ও সাইপ্রাস ভ্রমণ করেছেন।
চিঠিতে রেগেভ সতর্ক করেন, ফ্লাইট বাতিলের আনুষ্ঠানিক সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হবে এবং এ অবস্থায় এয়ারলাইন্সগুলোকে বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে জানাতে হতে পারে, যা ইসরায়েলের বিমান পরিবহন খাতে বড় আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনবে।
তিনি বলেন, এতে বিমান সংস্থা, পর্যটন খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিলিয়ন শেকেলের ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিমান পরিবহন খ্যাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানগুলো বর্তমানে লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলে অবস্থান করছে। রেগেভ প্রস্তাব দিয়েছেন, কিছু বিমান সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হোক এবং কিছু সামরিক বিমানকে বেসামরিক বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা হোক।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
