Advertisement

মোজতবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চান ট্রাম্প

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মোজতবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চান ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Advertisement

বুধবার (৩ জুন) নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ নামক একটি পডকাস্টে তিনি এই আগ্রহের কথা জানান। সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ধীরগতিতে চললেও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তারা বেশ ভালোই মানিয়ে নিচ্ছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনিও ওই হামলায় গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে মোজতাবাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

মোজতাবার এই অন্তরালে থাকার কারণে বর্তমানে অ্যানালগ বা চিঠি আদান-প্রদানের ধীরগতির প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চালাতে হচ্ছে। এতে চুক্তি প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ হহচ্ছে বরে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্পের মতে, মোজতাবা এই প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি যুক্ত আছেন এবং দেশের মানুষ তাকে যথেষ্ট সম্মান করে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তার (মোজতাবা) সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য আমার এখনও হয়নি। তবে প্রচলিত খবর সত্যি হলে, হামলায় তার শরীরের অনেক অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবকিছুর পরেও শোনা যাচ্ছে তিনি সব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করছেন। প্রথমে তার বাবা এবং এখন তিনি—এটি একটি পারিবারিক উত্তরাধিকারের মতো। তবে আশার কথা হলো, আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া বেশ ভালোই হচ্ছে।’

সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে দেখা করতে পছন্দ করি। তার সঙ্গেও দেখা করতে চাই। পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে কোনো এক সময় আমাদের অবশ্যই বৈঠক হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি প্রথাবিরোধী বৈঠক করার ইতিহাস ট্রাম্পের আগেও ছিল। তিনি মনে করেন, এই ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা দেশের নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করে। এর আগে প্রথম মেয়াদে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। তাদের মধ্যকার চিঠিপত্রকে ‘বন্ধুত্বের চিঠি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এছাড়া আফগানিস্তানের তালেবান নেতাদেরও তিনি ক্যাম্প ডেভিড-এ আমন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছিলেন। যদিও পরে এই বৈঠক বাতিল হয়।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতাবা খামেনির প্রতি ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মনোভাব সবাইকে কিছুটা অবাক করেছে। কারণ এর আগে তিনি মোজতাবাকে ইরানের জন্য ‘অযোগ্য’ নেতা বলে উপহাস করেছিলেন।

গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা মোজতাবা খামেনি ‘সমকামী’ এবং শৈশবের এক গৃহশিক্ষকের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছিল। তখন ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা এই অসমর্থিত তথ্য নিয়ে বেশ হাসাহাসি করেছিলেন। ট্রাম্প তখন মন্তব্য করেছিলেন, এই ধরনের গুজব ইরানের মতো একটি রক্ষণশীল দেশে মোজতাবাকে শুরুতে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। তবে অতীতের সেইসব তিক্ততা ও উপহাস ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখন ইরানের এই শীর্ষ নেতার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে উন্মুখ।