উত্তাল প্যারাগুয়ে, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি

লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনাকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রতিবাদ ও দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অর্থনৈতিক সংকটের জেরে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে পেনশনভোগীসহ লাখ লাখ সাধারণ আমানতকারী তাদের জমানো অর্থ তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় প্যারাগুয়েজুড়ে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা অতীতে এই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী একটি শিল্পগোষ্ঠীর শেয়ারের মালিক ছিলেন। যদিও তিনি গত বছর তার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার দাবি করেছেন। তবুও ‘অসদাচরণ ও স্বার্থের সংঘাত’-এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে অপসারণ করতে বিরোধীদের ৩৫ জন আইনপ্রণেতা অভিশংসন প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।
ক্ষমতাসীন দলের ভিন্নমতাবলম্বী আইনপ্রণেতা মাউরিসিও এসপিনোলা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দেশটির ৮০ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্ট কংগ্রেসে এই প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
নিয়ম অনুসারে, অভিযোগগুলো পর্যালোচনার পর প্রেসিডেন্ট পেনা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানাকে অপসারণের এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কংগ্রেসে অন্তত ৫৩ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হবে। এরপর প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠানো হলে সেখানে ৪৫ ভোটের মধ্যে কমপক্ষে ৩০টি ভোট পেতে হবে।
তবে প্যারাগুয়ের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই পেনার ক্ষমতাসীন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখায় প্রস্তাবটি পাস হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাজধানী আসুনসিওনসহ বিভিন্ন শহরের উয়েনো ব্যাংক শাখাগুলোর সামনে টাকা তোলার জন্য গত দুই দিন ধরে আমানতকারীদের উপচে পড়া দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। শত শত হতাশ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন। ৬৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী মার্সেলিনো ভারগারা অশ্রুসিক্ত চোখে এএফপি-কে বলেন, ‘আমি আমার সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছি।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে ও জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রশমিত করতে প্রেসিডেন্ট পেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেছেন, দেশের ‘আর্থিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ মজবুত’ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়কারীরা যাতে দ্রুত নিজেদের অর্থ ফেরত পান, সেজন্য একটি জরুরি আইন প্রণয়ন করেছেন পেনা। এই আইনের আওতায় গ্যারান্টি তহবিল থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।
উয়েনো ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা ৩০ লাখের বেশি, যা প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। প্রতিষ্ঠানটি লাখ লাখ ডলারের পেনশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তহবিলও পরিচালনা করে থাকে। তীব্র মূলধন ঘাটতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে ব্যাংকটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই কেলেঙ্কারির জেরে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের বিশেষ অনুরোধে পদত্যাগ করেছেন প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট কার্লোস কারভালো। তিনি অতীতে উয়েনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে উয়েনো ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মিগেল ভাজকেজসহ আটজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির প্রধান মিগেল ভাজকেজ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
(2)-6182f1.jpg)


