ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প/চার দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই শিশু উদ্ধার

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির কয়েক দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের খবর মিলছে। রোববার (২৮ জুন) দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে আরও ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন ১১ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে।
রদ্রিগেজ জানান, দুই শিশুকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের আশা কমে আসছে।
সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত বুধবার ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধসে পড়ে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। অনেক পরিবার ভারী যন্ত্রপাতির অপেক্ষায় নিজেদের হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করছে।
কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট (ইউএনজিআরডি) জানিয়েছে, মোইসেস নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে প্রায় তিন মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মীদের ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শিশুটিকে তার মা ও বোনের মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এএফপি জানিয়েছে, রোববার কারাবালেদা শহরে ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তার কিশোর ছেলেকেও জীবিত উদ্ধার করেছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, লা গুয়াইরা উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে একের পর এক পরাঘাত (আফটারশক) উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকাজ ধীরগতির। কোথাও কোথাও এখনো ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজই শুরু হয়নি। নিরাপত্তার কারণে কিছু এলাকায় প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বিমানবন্দর, গলফ কোর্স ও খোলা জায়গায় গাড়ি বা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। কারাবালেদার একটি গলফ কোর্স এখন অস্থায়ী হাসপাতাল, ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র এবং হেলিকপ্টার অবতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রদ্রিগেজ বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে একা ফেলে রাখা হবে না। সরকার, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৯টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে। প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মী, ১১১টি অনুসন্ধানী কুকুর, চিকিৎসক দল এবং ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষ শনাক্তে ব্যবহৃত বিশেষ ‘ককরোচ ড্রোন’ নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি






