কারখানার ঝুট দখলে মোটরসাইকেল মহড়া, আতঙ্ক

গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীতে ঝুট (কারখানার বর্জ্য) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একটি কারখানার সামনে কয়েক শতাধিক মোটরসাইকেলের মহড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মহড়ায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কারখানায় ঢুকে নিজেদের ‘বড় নেতার লোক’ পরিচয় দিয়ে সমঝোতা ছাড়া ঝুট অন্য কাউকে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যান।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে টঙ্গী শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ কয়েক শতাধিক মোটরসাইকেল কারখানার সামনে জড়ো হয়। এতে শ্রমিক-কর্মচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহড়ায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেন। পরে ৮ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কারখানার ঝুট অন্য কাউকে না দেওয়ার কথা বলে চলে যান।
কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন জানান, তারা একজন বিএনপির বড় নেতার লোক পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন। বলে গেছেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া ঝুট দেওয়া যাবে না। ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে বিদেশি ক্রেতা (বায়ার) অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় তারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ওই কারখানার বর্তমান ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে নতুন করে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
কারখানার সামনের কয়েকজন দোকানি জানান, শত শত মোটরসাইকেলের বহর দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। তাদের দাবি, কয়েকজনের হাতে অস্ত্রসদৃশ বস্তু ছিল। তবে তারা কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।
মোটরসাইকেল মহড়ায় থাকা একজন জানান, ৪৩ ও ৪৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের নেতারা ওই কারখানায় গিয়েছিল। মূলত প্রশাসকের সালাম জানাতে তারা কারখানায় গিয়েছিল। কারখানার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলে সবাই চলে এসেছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, মোটরসাইকেল মহড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কোনো সংঘর্ষ হয়নি। বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।






