জুলাই শহীদ ছেলের ‘অনুদানের টাকায়’ বাবার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত এক শিক্ষার্থীর নামে পাওয়া সরকারি ‘অনুদানের টাকা’ দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, নিজের উপার্জনের টাকায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে বিরোধ চলছে।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশাসন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম।
মমতাজ বেগমের দাবি, গত ২৯ মে সাত লাখ টাকা কাবিন ও প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়ে আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এসব খরচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে পাওয়া সরকারি অনুদানের টাকা থেকে করা হয়েছে।
শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তার ডান চোখের পাশ দিয়ে মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তিনি মারা যান।
মমতাজ বেগম বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই আব্দুল মতিন তাকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বংশ রক্ষার কথা বলে তিনি বারবার বিয়ের প্রসঙ্গ তুলতেন। তার দাবি, দুই পরিবার চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আব্দুল মতিনের নেই।
তবে আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বংশ রক্ষার জন্য ও মায়ের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিও নিয়েছিলেন বলে তার দাবি।
তিনি আরও বলেন, আলফা গ্রুপের মতিঝিল শাখায় দীর্ঘদিন ধরে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজের সামর্থ্যেই তিনি বিয়ে করেছেন, ছেলের অনুদানের টাকা ব্যবহার করা হয়নি।
দ্বিতীয় বিয়ের পর সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধের বিষয়ে আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তার ভাষ্য, পরিবারটির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। চাইলে তাকে নিয়েই সংসার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।






