আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিং, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিং, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিসের সামনে জড়ো হয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডানের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় উত্তেজিত ফুটবল-প্রেমীরা স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Advertisement

রোববার (২৮ জুন) সকালে ম্যাচটি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমছিল। রোববার সকালে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সেই ক্ষোভ আরও বাড়ে। এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা জোনাল অফিসে ভাঙচুর চালায়।

তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলায় বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৯৪ হাজার। পিক আওয়ারে (ব্যস্ত সময়ে) উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কেন্দুয়ায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়া এলাকায় আটটি ও রামপুর এলাকায় চারটি ফিডার রয়েছে।

কাগজে-কলমে ফিডারের সংখ্যা ১৩টি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ নম্বর ফিডারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দুয়ায় সচল আটটি ফিডারের মধ্যে বর্তমানে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। মূলত ময়মনসিংহ গ্রিডের মাধ্যমে নেত্রকোনা হয়ে কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘অফিস ভাঙচুরের ঘটনাটি মৌখিকভাবে থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ীই গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।