রংপুর নগরীতে উড়ছে কালেমা-সংবলিত সাদা পতাকা

রংপুর নগরীজু্ড়ে টানানো হয়েছে সাদা কাপড়ে লেখা কালেমা-সংবলিত পতাকা। রোববার (২৮ জুন) নগরীর বিভিন্ন স্থানে এসব পতাকা দেখা যায়।
নগরী ঘুরে দেখা গেছে, শাপলা চত্বর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহানগর ও জেলা কার্যালয়ের সামনের সড়কের রেলিংয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে জুলাই চত্বর পর্যন্ত পতাকাগুলো উড়ছে।
শাপলা চত্বরে কথা হয় ইজিবাইকচালক নুর আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, শনিার থেকে পতাকাগুলো এখানে উড়ছে। এর আগে কোনো দিন এমন পতাকা দেখিনি।
স্থান আম বিক্রেতা আজানুর রহমান বলেন, আরবি লেখা পতাকা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতেছেন। অনেকে বলছেন, এগুলো নাকি আল কায়দা, তালেবানি পতাকা। আমরা চাই দেশ ভালো থাক, আমরা ভালো থাকি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পতাকা টানানোর জন্য ফেসবুক পোস্ট দিয়ে ঘোষণা দেন নাঈম ইসলাম নামে এক যুবক। পতাকা টানানোর জন্য শনিবার নগরীতে তাওহীদি ছাত্র-জনতা নামে কালিমার মিছিল বের করা হয়।
তাওহীদি চেতনাকে বুকে ধারণ করে এবং আত্মিক ও নৈতিক জাগরণকে সুসংহত করতে মিছিলটি নগরীর প্রেসক্লাব এলাকায় বের করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পতাকা টানানো হয়।

এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা হলে নাঈম ইসলামের। তিনি জানান, তিনি হারাগাছ সরকারি কলেজের ছাত্র। তারা ‘তাওহীদি জনতার’ ব্যানারে পতাকা টানাচ্ছেন।
নাঈম বলেন, ‘আমরা গত বৃহস্পতিবার কিছু ব্যানার লাগিয়েছিলাম। কে বা কারা সেটাকে তুলে ফেলেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যে ফিফা বিশ্বকাপ উন্মাদনা নিয়ে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল—যারা গণহত্যাকারী ইসরায়েলকে পূর্ণদমে সমর্থন করে, তাদেরকে অস্ত্র দিয়ে, অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে, তো আমরা মজলুমের পক্ষে, তাই কালেমার পতাকা নিয়ে আমরা বের হইছি। আমাদের উদ্দেশ্য এগুলোই ছিল।’
নাঈম বলেন, ‘পতাকার মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই এটাই যে, আমাদের যদি একটি পতাকা ছুড়ে ফেলা হয়, তাহলে আমরা শতশত পতাকা লাগাব। আর এটা ৯২ শতাংশ মুসলিম কান্ট্রি, এখানে হচ্ছে কালেমার পতাকা উড়বে, ইহুদি-খ্রিস্টানের না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক বা কোনো অঙ্গসংগঠন—কারও দ্বারা কোনো কিছু না। আমি একটা জিনিস ওখানে ভেঙে দিছি, অনেকে এই পতাকাকে বলতেছে আইএস জঙ্গি অথবা তালেবানদের পতাকা। তালেবানদের পতাকার নির্দিষ্ট মাপ আছে, নির্দিষ্ট ধরন আছে, নির্দিষ্ট সাইজ আছে। আমাদের এই পতাকার কোনো সাইজ বা ধরন নেই। আমরা জাস্ট একটা সাদা কাপড়ে কালেমা লিখিত পতাকা বানাইছি এবং এটা তাওহীদের। প্রশাসনের ভাইয়েরা আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতেছে কল দিয়ে, আমাদের বিভিন্ন খোঁজখবর নিচ্ছে যে আমরা কোথায় থেকে বা কী করি।’
এ বিষয়ে রংপুর মহনগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, ‘আমি দেখিনি, নজরে আসেনি। কীসের পতাকা, কে লাগাচ্ছে, কারা লাগাচ্ছে আল্লাহ জানে। দেখতেছি বিষয়টা।’






