বরিশালে পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

বকেয়া পরিশোধ এবং কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রোববার (২৮ জুন) সকালে নগরীর রুপাতলীতে কারখানার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি গ্যাস টার্বাইন এলাকা থেকে রূপাতলী গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলা ১১টার দিকে রূপাতলী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শ্রমিকরা। এতে প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেন।
সমাবেশে শ্রমিকরা দুই মাসের বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, নাইট বিল ও সার্ভিস বেনিফিট দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরি বহাল রেখে কারখানা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
এ সময়ে বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশের পর ১৮ দিন ধরে শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমস্যার সমাধান এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩০ জুনের বৈঠকে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সব কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, এখানে শ্রমিকরা দুই মাসের কাজের বিনিময়ে টাকা চাচ্ছেন, আপরদিকে মালিক টাকা না দিয়ে দুবাই গিয়ে বসে আছেন। আবার মালিকের সিও বলছেন এই কারখানা নাকি স্ক্যান সিমেন্ট কিনে নিচ্ছে। বিক্রির পরও তিনি নাকি সিও থাকবেন। এবং তিনি যাকে যাকে পছন্দ হবে, তাকে তাকে চাকরি দেবেন। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, স্ক্যান সিমেন্ট কিনুক আর যেই সিমেন্ট কারখানা কিনুক, আগে এই শ্রমিকদের চাকরি দিতে হবে। এখানে সিমেন্ট-বালু খেয়ে শ্রমিকরা কারখানাকে দাঁড় করিয়েছে। তাদেরই পাওনা টাকা দিতে চান না, আপনারা কি মানুষ?
তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছি, এর ভেতর যদি মালিক শ্রমিকের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে, তবে ধ্বংসাত্মক কিছু না করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।






