শেষ ষোলোর স্বপ্নে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা

বিশ্বকাপের শেষ ৩২ শুরু হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার ম্যাচ দিয়ে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে এই প্রথম রাউন্ড অব ৩২ যোগ হয়েছে, আর সেই নতুন অধ্যায়ের প্রথম ম্যাচেই আছে ইতিহাসের হাতছানি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা, দুই দলই আগে কখনো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেনি। তাই ম্যাচটি শুধু শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াই নয়, দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসেরও বড় সুযোগ। যে দল জিতবে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচের জয়ী দল।
দক্ষিণ আফ্রিকার পথটা ছিল কঠিন। উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে শুরু করেছিল বাফানা বাফানা। এরপর চেকিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র করে তারা। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেন থাপেলো মাসেকো। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। সেখানে আবারও নায়ক মাসেকো। তাঁর একমাত্র গোলেই দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
কানাডার শুরুটাও খুব সহজ ছিল না। প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ ড্র করে সহ-আয়োজক দলটি। বদলি হিসেবে নেমে সাইল লারিন গোল করে কানাডাকে সমতায় ফেরান। এরপর কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলের বড় জয় পায় কানাডা। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন জোনাথন ডেভিড। তবে গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ হারায় সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে।
ফর্ম ও শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকবে কানাডা। গ্রুপ পর্বে তাদের আক্রমণ বেশি ধারালো ছিল। কাতারের বিপক্ষে বড় জয় এবং জোনাথন ডেভিডের ছন্দ দলকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শেষ ষোলোয় ওঠার দৌড়ে কানাডার সম্ভাবনাও বেশি। তাদের পরের ধাপে যাওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬৬ শতাংশ।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুধু আন্ডারডগ হিসেবে দেখলে ভুল হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই গোলই করেছেন মাসেকো। নকআউটের প্রথম ম্যাচেও তাঁর গতি ও ফিনিশিংয়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বড় সুখবর, তেবোহো মোকোয়েনা নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরছেন। প্রথম দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। মাঝমাঠে তাঁর ফেরা দলকে বাড়তি ভারসাম্য দিতে পারে। তবে থেম্বা জোয়ানে এখনও নিষিদ্ধ। মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর এই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না তিনি।
কানাডার দুশ্চিন্তা চোট নিয়ে। কাতারের বিপক্ষে পায়ের হাড় ভাঙা ইসমায়েল কোনে এই ম্যাচে নেই। স্টিফেন এউস্তাকিও ও আলফি জোন্সের ফিটনেস নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। আলফোনসো ডেভিস বেঞ্চে থাকতে পারেন। চোটের কারণে গ্রুপ পর্বে খেলতে পারেননি বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা।
কানাডার আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভরসা জোনাথন ডেভিড। কাতারের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি নিজের ছন্দের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে লারিন থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণকে বড় পরীক্ষায় পড়তে হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার আশা মাসেকোকে ঘিরে। তাঁর সঙ্গে মাঝমাঠে মোকোয়েনার ফেরা দলকে আরও শক্ত করতে পারে।
সম্ভাব্য দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ
উইলিয়ামস; মুদাউ, এমবোকাজি, ওকন, মোদিবা; এমবাথা, মোকোয়েনা; মাসেকো, মোফোকেং, অ্যাপোলিস; মাকগোপা।
সম্ভাব্য কানাডা একাদশ
ক্রেপো; জনস্টন, ডি ফুজেরোলেস, কর্নেলিয়াস, লারেয়া; বুকানান, এউস্তাকিও, সালিবা, আহমেদ; ডেভিড, লারিন।
ম্যাচটির আরেকটি আকর্ষণ সম্ভাব্য পরের রাউন্ড। কানাডা জিতলে সহ-আয়োজক দেশের নকআউট স্বপ্ন আরও এগোবে। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে আফ্রিকান ফুটবলের জন্য তৈরি হতে পারে বড় গল্প। মরক্কো নেদারল্যান্ডসকে হারালে শেষ ষোলোয় দক্ষিণ আফ্রিকা-মরক্কো অল-আফ্রিকান লড়াইও দেখা যেতে পারে।
বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাট নিয়ে অনেক আলোচনা আছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার মতো দলের জন্য এই ফরম্যাট নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এখন সেই দরজা পেরিয়ে ইতিহাসের আরও ভেতরে ঢোকার সুযোগ দুই দলের সামনেই।





