Advertisement

ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকর ‘এল নিনো’, বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে বলল জাতিসংঘ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকর ‘এল নিনো’, বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে বলল জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র দাবদাহ ও চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, বিশ্বকে ‘এল নিনো’র আসন্ন প্রভাব ও এর ফলে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্তা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এবারের ‘এল নিনো’ মাঝারি থেকে প্রবল শক্তিশালী হতে পারে, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের আগেই ‘এল নিনো’ গঠনের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ এবং নভেম্বরের আগেই তা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। বেশির ভাগ আবহাওয়া মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ‘এল নিনো’ ‘অন্তত মাঝারি’ মাত্রার হবে, তবে এটি আরও শক্তিশালীও হতে পারে।

যদিও কিছু বিজ্ঞানী সতর্ক করেছেন, এটি এই শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে। ডব্লিউএমও এখনই সেই মূল্যায়নকে নিশ্চিত করেনি। সংস্থাটি বলছে, এ বিষয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, ‘এর বিস্তৃতি অনেক বেশি। কিছু মডেল শক্তিশালী এল নিনোর কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না, আবার অন্যগুলো দিচ্ছে।’

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বকে অবশ্যই এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, এল নিনো জলবায়ু উষ্ণায়নের আগুনে ঘি ঢালবে। এর প্রভাব আরও তীব্রভাবে পড়বে, আরও দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে এবং বিধ্বংসী গতিতে সীমান্ত অতিক্রম করবে।’

২০২৩-২৪ সালে আঘাত হানা সর্বশেষ এল নিনোটি ছিল নথিভুক্ত পাঁচটি শক্তিশালী এল নিনোর মধ্যে অন্যতম। এর ফলে ২০২৪ সালে তীব্র তাপদাহ দেখা দেখ, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, আগামী তিন মাস ধরে বিশ্বের প্রায় সব অংশে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং অতিবৃষ্টি ও খরার সম্ভাবনা বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এল নিনোর প্রভাব সবসময় এক রকম না হলেও, সাধারণত এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন আনে। ফলে দক্ষিণ আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অন্যদিকে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরা বা শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের উষ্ণ সমুদ্রের পানি হারিকেনকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে একই সময়ে এটি আটলান্টিক মহাসাগরে নতুন হারিকেন গঠনের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান