ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই মতপার্থক্য

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও নানামুখী অবস্থান তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, এই চুক্তি নিয়ে তাদের গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে, পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে তেহরান ছাড় দিতে সত্যিই রাজি কি না, সেই সদিচ্ছা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের তথ্য সামনে এনেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ প্রধানের সঙ্গে একই সুর মিলিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এই চুক্তিটি নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রশাসনের ভেতরে অন্য একটি শক্তিশালী পক্ষ চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার চুক্তির পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সেসব বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্প ও তার দল কিছু বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করেন।
তথ্যে দেখা গেছে, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় চুক্তিটি নিয়ে এমন সব কথাবার্তা বলছেন, যা তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
এই তথ্যের সূত্র ধরে সিআইএ প্রধান র্যাটক্লিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তি দেখিয়েছেন, ওয়াশিংটন পারমাণবিক বিষয়ে যে ধরনের ছাড় চাইছে, ইরান শেষ পর্যন্ত তা মেনে চলবে কি না—তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
প্রশাসনের ভেতরের এই মতভেদ ও আলোচনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সব মতামত ও যুক্তি শোনেন। তবে সবাই ভালো করেই জানেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী একমাত্র তিনি।
ওই কর্মকর্তা অবশ্য চুক্তির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আরও বলেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নির্ধারিত সব সীমা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ এই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। পাশাপাশি তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকে কোনোভাবে জিম্মি করতে পারবে না।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
