বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ৪টিই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার

কানাডাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আকাশ ঢেকে গেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েকটি বড় শহরে বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ লাইভ র্যাংকিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১০টি শহরের মধ্যে উত্তর আমেরিকার চারটি শহরের নাম উঠে এসেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে প্রকাশিত আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট ১৬০ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের চতুর্থ দূষিত শহর। এর পরেই রয়েছে কানাডার টরন্টো ও মন্ট্রিল। শহর দুটির একিউআই স্কোর যথাক্রমে ১৫৮ ও ১৫৬, যা উভয়ই ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ১৩১ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে। শহরটির বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার অন্টারিও ও আশপাশের বনাঞ্চলে জ্বলতে থাকা দাবানলের ধোঁয়া বাতাসের প্রবাহে দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পৌঁছেছে। এতে বাতাসে ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এসব কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদ্রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আইকিউএয়ারের একই তালিকায় ১৯১ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৭৬) এবং তৃতীয় স্থানে কঙ্গোর কিনশাসা (১৭২)।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, এএকিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।



