Advertisement

তেলাপোকা জনতা পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, জানালেন প্রতিষ্ঠাতা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
তেলাপোকা জনতা পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, জানালেন প্রতিষ্ঠাতা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান বিচারপতির বেকার তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করার পর ব্যাপক সমালোচনার জন্ম নেয়। এ নিয়ে ইতোমধ্যে একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘রাজনৈতিক দল’ তৈরি হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি), যা নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। ‘দলটির’ ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি)।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়েছে। কিন্তু কয়েকঘণ্টার মধ্যেই এক্সে নতুন করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলে সিজেপি। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভোটের ময়দানে ‘আরশোলা’কে মেনে নেবে নির্বাচন কমিশন?

তবে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে থাকা অ্যাকাউন্ট এখনও নিষ্ক্রিয় বা মুছে ফেলা হয়নি। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ফলোয়ার সংখ্যা ১৫ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। এই প্ল্যাটফর্মে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির ফলোয়ার প্রায় ৮.৮ মিলিয়ন। সে তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে ব্যঙ্গাত্মক দলটি।

সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের অ্যাবাউট থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে প্রতিষ্ঠা হয়েছে ককরোচের। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। বিচারপতির কটুক্তির জবাবে খোলা সোশ্যাল মিডিয়ায় দল তৈরি হলেও ভারতের একাধিক রাজ্যে ইতোমধ্যেই সিজেপির রাজ্য স্তরের শাখা ইউনিট গজিয়ে উঠেছে। তবে এর পুরোটাই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক।

নেটাগরিকদের প্রশ্ন

সোশ্যাল মিডিয়ায় হুট করেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যাওয়ায় চর্চা শুরু হয়েছে যে, ককরোচ জনতা পার্টি কি সত্যিই ভোটের ময়দানে নামবে? যদি নামে সেক্ষেত্রে তাদের প্রতীক কী হবে? নামানুসারে ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’? মনে করা হচ্ছে, সিজেপির সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের অনুসারীদের সিংহভাগই তরুণ-তরুণী।

সবচেয়ে বড় কথা, নির্বাচন কমিশন কি মান্যতা দেবে সেই পার্টিকে? তা যদি দেয়ও, তেলাপোকাকে প্রতীক হিসেবে মানা হবে? সমস্যা হলো, নতুন দলকে ভোটে লড়তে গেলে নির্বাচন কমিশনে নাম নথিভুক্ত করতে হয়।

এরপর কমিশনের দেওয়া ফ্রি সিম্বলস তালিকা থেকে বেছে নিতে কোনও একটি প্রতীক। সেই তালিকায় তালা-চাবি, এয়ার কন্ডিশনার, ল্যাপটপ, দাবার বোর্ড, সিসিটিভি ক্যামেরা বা নেল কাটারের মতো শতাধিক প্রতীক থাকলেও তেলাপোকা নেই।

সিজেপি অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবি করেছে, তাদের নির্বাচনী প্রতীক হবে ‘মোবাইল ফোন’। তাও নেই কমিশনের প্রতীক তালিকায়। তাহলে কী হবে?

প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র অভিজিৎ দীপক বলেন, এই অ্যাকাউন্ট চালুর কোনো কিছুই ইচ্ছাকৃত ছিল না। এই আন্দোলনের উত্থান তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশারই প্রতিফলন। আসলে তরুণরাই খুব হতাশ ছিল। তাদের ক্ষোভ প্রকাশের কোনো পথ ছিল না। তারা সরকারের ওপর সত্যিই ক্ষুব্ধ ছিল।

তিনি বলেন, সিজেপি কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়। কিন্তু এর উত্থান দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে একটি বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিধ্বনি, যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুবকরা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে; এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান এবং নেপালের অস্থিরতাও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, সিজেপি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না। তবে এর উত্থান দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে দেখা দেওয়া একটি বড় প্রবণতার অংশ, যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান এবং নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন।

আন্দোলনটি ধীরে ধীরে অনলাইন থেকে রাস্তায়ও ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু তরুণ স্বেচ্ছাসেবক তেলাপোকার পোশাক পরে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রতিরোধও শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দীপকে এক্সে জানান, ভারতে প্রধান বিচারপতির প্রায় ২ লাখ অনুসারী থাকা একটি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। এটি তার কার্যক্রমের ওপর প্রথম দৃশ্যমান বিধিনিষেধগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তখনও স্পষ্ট ছিল না।

সূত্র: গার্ডিয়ান, এনডিটিভি, সংবাদ প্রতিদিন