logo

চুক্তি হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব কমছে বলল ইরান

চুক্তি হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব কমছে বলল ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি, তবে দুই পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য ও দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকার মধ্যে এমন তথ্য সামনে এলো।

চলমান এই আলোচনা নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক বার্তাও দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানান, দুই দেশের সংলাপে ‘কিছু ভালো লক্ষণ’ দেখা যাচ্ছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইরানের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মূল্যে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।

ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়; যদিও ইরান শুরু থেকেই একে শান্তিপূর্ণ কাজের উদ্দেশ্যে তৈরি বলে দাবি করে আসছে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা ওই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করবই। ওটা আমাদের প্রয়োজন বা শখের বস্তু নয়। পাওয়ার পর আমরা সম্ভবত তা ধ্বংস করে দেব, কিন্তু কোনোভাবেই তা ইরানের কাছে থাকতে দেব না।

একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরান যদি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ওপর কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করে, তবে কূটনৈতিক উপায়ে এই সংকটের সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু ভালো সংকেত মিলছে। তবে আমি এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না। দেখা যাক আগামী দিনগুলোতে কী ঘটে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছে, এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি, তবে দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসছে। সূত্রটি জানায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মতো বিষয়গুলো মূলত আলোচনার মূল জটিলতা হিসেবে আটকে আছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে ইরানের অপর দুটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইতোমধ্যে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতে এই ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য জাহাজের ওপর তেহরানের ট্যাক্স বসানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা এই আন্তর্জাতিক জলপথটিকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও উন্মুক্ত দেখতে চাই। এখানে কোনো টোল নেওয়া চলবে না।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হতো। চলমান এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও সমাধানের অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও ব্যাপক ওঠানামা ও দরপতন দেখা গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে যদি আশানুরূপ প্রস্তাব না আসে, তবে তিনি আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর প্রথম দফা হামলা চালায়। আমেরিকার এ হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

সম্প্রতি তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, এবার যদি নতুন করে কোনো হামলা চালানো হয়, তবে তার প্রতিশোধমূলক জবাব শুধু এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সীমানা ছাড়িয়ে দূর বহুদূর পর্যন্ত আঘাত হানবে।