logo

বিরোধীদের ঠেকাতে এবার মাঠে বিজেপির মন্ত্রীরা

বিরোধীদের ঠেকাতে এবার মাঠে বিজেপির মন্ত্রীরা
বিরোধীদের ঠেকাতে এবার মাঠে বিজেপির মন্ত্রীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দিল্লির কর্ণট প্লেস থেকে পদযাত্রা এরপর রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের মোদি হটাও, জ্ঞানেশ কুমার তারাও স্লোগানে মহা সমাবেশ। ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই পাল্টা পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পালন করেছে বিজেপি। হায়দ্রাবাদে দেশের গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলনে নেমেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও শুভেন্দু অধিকারীরা।

সোমবার হায়দ্রাবাদে পৌঁছান দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রোড শো করার পর সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বিষয় নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের নেতা রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে নিশানা করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘বছরে মাত্র তিন-চার মাস ভারতে থেকে, তারপর বিদেশে চলে গেলে নির্বাচনে জেতার আশা করা যায় না। রাহুলের উচিত আরও বেশি সময় দেশে থাকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করা।’

এসআইআর (SIR) নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দলগুলো এসআইআর (SIR) বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কারণ, এই অনুপ্রবেশকারীরাই তাদের ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা দৃঢ়ভাবে এসআইআর (SIR) এর পাশে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের ভোটাধিকার শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই থাকা উচিত। রাহুল গান্ধী এবং তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বিজেপি নিশ্চিত করবে, ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হবে এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।

একইভাবে কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট থেকে গণতন্ত্র বাঁচাও স্লোগান দিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে তারা প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ধর্মতলায় গিয়ে পদযাত্রা শেষ করেন।

কলকাতাতেও নীতিন নবীন পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। গণতন্ত্র বাঁচাও ও অরাজকতা হটাও স্লোগান তুলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আটকাতে এসআইআর সম্পূর্ণ করার ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পদযাত্রা শেষে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

পদযাত্রা শেষে জনসভার সংক্ষিপ্ত ভাষণে শুভেন্দু বলেন, ‘দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য। জেলে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য। পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য। আর তোষণের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যারা এক হয়েছে, তাদের বলে রাখি, ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। আর এসআইআর মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও। তাই আজকে এরা অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে।’

শুভেন্দু বলেন, ‘দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী, ভ্রষ্টাচারী, এইসবকে উপড়ে ফেলার কাজ আমাদের করতে হবে। আরশোলা, ছারপোকা, টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে সাবধান থাকবেন।’

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পরেই এই প্রথম আগামী মাসেই কলকাতা এবং হাওড়া সহ পাঁচটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে। তার আগে কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং দেশজুড়ে বিরোধীদের করা মোদি বিরোধী আন্দোলনকে পাল্টা চাপে ফেলতে বিজেপির এই সমাবেশ বা পদযাত্রা করা হয়েছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।