ওয়াশরুম ব্রেকেও অফিসের কড়া নজর, মানসিক অশান্তিতে কর্মী

একটানা ডেস্কে বসে কাজ করতে করতে অবসাদ নেমে আসে শরীরে। অবসাদগ্রস্ত শরীরটাকে একটু সচল করতে কিংবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওয়াশরুম কিংবা টয়লেটে যাবেন, কিন্তু সেখানেও আপনার পিছু নিয়েছে অদৃশ্য এক ঘড়ির কাঁটা! আপনি কতবার চেয়ার ছেড়ে উঠলেন, ঠিক কত মিনিট ওয়াশরুমের দরজার ওপাশে কাটালেন—তার প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব কষে রাখা হচ্ছে। টয়লেটের দরজাতেও যখন এমন কড়া নজরদারি বসে, তখন একজন কর্মীর স্বস্তি নেওয়ার শেষ আশ্রয়টুকুও বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমনই এক দমবন্ধ করা অদ্ভুত নিয়ম চালু করেছে ভারতের আহমেদাবাদের একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির খামখেয়ালি নিয়মের কারণে তীব্র মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন ওই অফিসের এক ভুক্তভোগী কর্মী। মাত্র কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে চালু হওয়া এই কঠোর নিয়মটির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ‘আমার কোম্পানি আমার ওয়াশরুম ব্রেক গণনা করছে’ শিরোনামে পোস্ট করে ফাঁস করে দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই কর্মী ১০ মাস আগে আহমেদাবাদের একটি ছোট আরসিএম বা রেভিনিউ সাইকেল ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে পরামর্শ চেয়ে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি অফিসের একজন বস তাকে ডেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সারা দিনে টয়লেটে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় পাবেন কর্মীরা। এর বেশি সময় লাগলে বাড়তি ডিউটি দিয়ে তা পুষিয়ে দিতে হবে।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তারা আক্ষরিক অর্থেই আমার ওয়াশরুমে যাওয়ার সবসময় নোট করে রেখেছে। অফিস টাইম শেষে আমাকে জানায়, আমি নাকি মোট ৫৩ মিনিট টয়লেটে কাটিয়েছি, যা তাদের বেঁধে দেওয়া গড় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের চেয়ে বেশি।’
শুধু সময় মেপেই ক্ষান্ত হয়নি অফিস কর্তৃপক্ষ, ওই বাড়তি ২৩ মিনিটের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে সেদিন অফিস ছুটির পর অতিরিক্ত আরও ৪০ মিনিট বসে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। ওই কর্মীর প্রশ্ন, গত ১০ মাস ধরে তিনি একই নিয়মে বিরতি নিয়ে আসছেন, তখন কোনো সমস্যা না হলেও হঠাৎ এখন কেন একে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে?
অথচ প্রতিষ্ঠানটি আকারে বেশ ছোট। ওই কর্মী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ছোট কোম্পানি হলেও তাদের আচরণ বড় বড় করপোরেটদের মতো। তিনি অফিসে কখনও কাজের ফাঁকি দেন না, কোনো রকম অভিযোগ ছাড়াই সবসময় সব কাজ নিখুঁতভাবে এবং সময়মতো শেষ করেন। এমনকি তিনি যে টয়লেটে গিয়ে মোবাইল স্ক্রল করে অলস সময় নষ্ট করছেন না, তা প্রমাণ করার জন্য ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় নিজের ফোনটিও ডেস্কে রেখে যান। তা সত্ত্বেও মাত্র ১০ কদম দূরের টয়লেটে যাওয়ার সময়টুকু এভাবে মেপে রাখায় তিনি মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পরপর তা নেটিজেনদের নজরে কাড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, কোম্পানিটি তাকে সরাসরি চাকরি থেকে না তাড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন মানসিক চাপ দিচ্ছে, যাতে তিনি নিজে অতিষ্ঠ হয়ে পদত্যাগ করেন।
কমেন্ট বক্সে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আপনাকে টার্গেট করা হচ্ছে। তারা বের করে দেওয়ার আগে আপনি নতুন চাকরি খুঁজুন এবং ইস্তফা দিন।’ আরেকজন সরাসরি পরামর্শ দিয়েছেন, ‘এখান থেকে পালিয়ে বাঁচুন।’
একই খাতের অন্য এক চাকরিজীবী মন্তব্য করেছেন, ‘আরসিএম খাতের নাম শুনলেই সব বোঝা যায়। আমিও এই খাতেই আছি, তবে এখনও এমন বড় ধাক্কা খাইনি। তবে আমি নিশ্চিত, আমার কোম্পানিও শিগগিরই এমন পাগলামি শুরু করবে।’
অন্যদিকে আহমেদাবাদের স্থানীয় ব্যবসায়িক সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটি যদি আহমেদাবাদ হয়, তবে শতভাগ নিশ্চিত এটি কোনো ‘লালা কোম্পানি’ বা পারিবারিক ব্যবসা। এটি কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি নয়, বরং একজন বানিয়া (ব্যবসায়ী) নিজের মতো করে এটি চালাচ্ছে; তাই আর দেরি না করে দ্রুত পালিয়ে যান।’
