logo

ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার খবর ভুয়া: ট্রাম্প

ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার খবর ভুয়া: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হলে পুনর্গঠনের জন্য তেহরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে বলে ছড়ানো খবরটি উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন যে, চুক্তির শর্ত মেনে চললে ইরান আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। তবে এর বিনিময়ে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইরানের নেতারা যদি শান্তি চুক্তির শর্ত মেনে চলেন তাহলে দেশটি ৩০ বিলিয়ন ডলার পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে ইরান এমন সুবিধা পেতে পারে। এই তহবিল গালফ কোস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে গঠিত হবে।’

অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ছড়ানো ওই খবরটি উড়িয়ে দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না, এ ব্যাপারে তারা সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো ভুয়া তথ্য।’

ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট

তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির আওতায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যত কী হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সুরাহা হয়নি যেসব প্রশ্নের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, তেহরান নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেনি, কীভাবে এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিশেষ করে, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলছে কি না তা যাচাই করবে কোন সংস্থা, কিংবা গত গ্রীষ্মে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিচে সংরক্ষিত বলে ধারণা করা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যত কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৯ জুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর শুরু হওয়া ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

চুক্তির অপ্রকাশিত নথি নিয়ে আলোচনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস চলতি সপ্তাহেই নথিটি প্রকাশ করবে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘তখন সবাই দেখতে পাবে যে, ইরান তার দায়বদ্ধতা পূরণ না করলে তারা এক পয়সাও পাবে না।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানেরও পুনরাবৃত্তি করেন ভ্যান্স। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ আবারও ফল দিয়েছে এবং এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রথম দিন থেকেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ইরানের কাছে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমেরিকার বিরোধীদের নানা বাধা সত্ত্বেও তার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আবারও আমেরিকান জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।