Advertisement

হাল ছেড়ে দেন সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা, দেশের চিকিৎসায় সুস্থ এহসানুল

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
হাল ছেড়ে দেন সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা, দেশের চিকিৎসায় সুস্থ এহসানুল
ছবি: এভারকেয়ার হাসপাতাল, চট্টগ্রাম।

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আশা ছেড়ে দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। পরে দেশের চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যা ও সাহসিকতায় নতুন জীবন পেলেন ১৮ বছরের তরুণ এহসানুল করিম। প্রায় দেড় মাসের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েই অনেকটা সুস্থ জীবন কাটাচ্ছেন এহসান।

চিকিৎসকেরা জানান, এহসানুল এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন, মুখে খাবার খেতে পারছেন এবং কারও সাহায্য নিয়ে হাঁটাচলাও করছেন।

রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা নাসিমুল গণির ছেলে এহসানুল করিম দীর্ঘদিন ধরে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেইনস্টেম গ্লিওমাতে (মস্তিষ্কের একধরনের জটিল টিউমার বা ক্যান্সার) ভুগছিলেন। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে; শরীরের বাঁ পাশ অবশ হয়ে আসে এবং কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। খাবার গিলতে গেলে তা শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হতো। দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শে গত বছরের ১২ মে এহসানুলকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এহসানের বাবা নাসিমুল গণি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে ভর্তির পরদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা জানান, মস্তিষ্কের সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল এবং তা অস্ত্রোপচার করার মতো অবস্থায় নেই। সেখানে ছেলেটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, কথা বলা বা খাওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে। তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হলেও অবস্থা সংকটজনক দেখে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা একপর্যায়ে আশা ছেড়ে দেন এবং দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।’

নিরুপায় হয়ে গত ১৭ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে এহসানুলকে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনে তার পরিবার। পরে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গত ৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এভারকেয়ারের চিকিৎসকেরা ঝুঁকি নিয়ে এই জটিল রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। ভেন্টিলেটর ও রাইস টিউব লাগানো অবস্থাতেই আইসিইউ থেকে বের করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শুরু হয় রেডিয়েশন থেরাপি। ১০-১৫টি সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর তার শ্বাস-প্রশ্বাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে। পরে সফলভাবে মোট ৩০টি সেশন শেষ করার পর গত ২৩ জুলাই হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

চিকিৎসক দলটির নেতৃত্বে থাকা চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের রেডিয়েশন থেরাপি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘আইসিইউর একজন অতি-সংকটজনক রোগীকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রেখে ৩০টি রেডিয়েশন থেরাপি সম্পন্ন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। সফলভাবে থেরাপি শেষে রোগীকে ভেন্টিলেটর মুক্ত করে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে ফিরিয়ে আনা আমাদের পুরো টিমের জন্য বড় একটি সাফল্য।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশেই এখন আন্তর্জাতিক মানের জটিল ক্যান্সার ও টিউমারের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’

ছেলের সুস্থতায় আবেগাপ্লুত বাবা নাসিমুল গণি বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে ছেলে আমার এখন নিজে খাচ্ছে, কথা বলছে ও হাঁটছে। সিঙ্গাপুরের তুলনায় দেশে অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠেছে।’

তিনি চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।