Advertisement

জিয়া হত্যা মামলার পলাতক একমাত্র আসামি যেভাবে শনাক্ত হলেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জিয়া হত্যা মামলার পলাতক একমাত্র আসামি যেভাবে শনাক্ত হলেন
বাঁয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ডানে মেজর অবসরপ্রাপ্ত মোজাফফর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পাওয়া কয়েকটি সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই ৪৫ বছর ধরে পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে শনাক্ত করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে কয়েকটি সন্দেহজনক মোবাইল নম্বর শনাক্ত হয়। নম্বরগুলোর প্রকৃত ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করতে সেগুলো পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে মাসুদ উদ্দিনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে রাজধানীর বনানী ও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে এক ব্যক্তি একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মাসুদ উদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সময়ের ফোনালাপ এবং খুদে বার্তা আদান-প্রদানের তথ্যও পাওয়া যায়।

পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যবহৃত সিমগুলো ভুয়া নামে নিবন্ধিত ছিল। ফলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন নম্বরগুলোর ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠানো হয়।

পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, ওই নম্বরগুলোর ব্যবহারকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার ৪৫ বছর ধরে পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর হোসেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, সন্দেহজনক নম্বরগুলো শনাক্ত করা হয়েছিল ট্রাইব্যুনালের তদন্তে। তবে মোজাফফরের পরিচয় উদ্ঘাটন এবং তাকে শনাক্ত করার মূল কাজটি করেছে পুলিশ।

সূত্র: প্রথম আলো