Advertisement

বার্গার খাওয়ায় বিতর্ক, ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্রকে বহিষ্কার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বার্গার খাওয়ায় বিতর্ক, ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্রকে বহিষ্কার
সদ্য বহিষ্কৃত ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জাতীয় সংসদ অভিমুখে লংমার্চে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক নজিরবিহীন বিতর্কে জড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিতর্কের জেরে দলীয় মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়াকে বহিষ্কার করল দলটি।

আন্দোলনত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় বিজেতা দাহিয়ার একটি ফাস্ট-ফুড আউটলেটে বার্গার খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। এই বিতর্কিত ও দলীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। একই সঙ্গে দাহিয়ার এমন আচরণকে ‘চরম অসংবেদনশীল’ বলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ছাত্র অধিকারের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া দলটি।

বিবৃতিতে সিজেপি জানায়, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও আমাদের দল যখন পুলিশের নির্মম সহিংসতার শিকার হচ্ছিল, ঠিক সেসময় এই ভিডিওগুলো সামনে এসেছে। বিজয়ী দাহিয়ার এই চরম অসংবেদনশীল আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, যা চরম বিচারবুদ্ধিহীনতার পরিচয় এবং আমাদের আন্দোলনের নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থি।’

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সিজেপির মুখপাত্র পদ থেকে দাহিয়াকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দলের সমস্ত দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির ‘সংসদ অভিযান’ চলাকালীন। সেসময় একটি ফাস্ট-ফুড আউটলেটে (বার্গার কিংস) দাঁড়িয়ে দাহিয়ার খাবার খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি হিন্দুস্তান টাইমস।

তবে আন্দোলনের মূল ঘটনাস্থলে যখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করছিল, তখন এক মুখপাত্রের এমন ভিডিও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। সাধারণ ব্যবহারকারী ও আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন, রাজপথে সহকর্মীরা রক্তাক্ত হওয়ার সময় তিনি সেখানে কেন অনুপস্থিত ছিলেন?

সমালোচনার মুখে পড়ে বিজেতা দাহিয়া একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সপক্ষ যুক্তি দেন। দাহিয়ার দাবি, তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং মিছিল শেষ হয়েছে ভেবেই সেখান থেকে গিয়েছিলেন।

আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি বলেন, ‘আমি বার্গার কেন খেলাম? আজকাল এটা নাকি একটা বড় ইস্যু! মানুষ বার্গার কেন খায়? ক্ষুধা পেলে খায়। তো আমারও খুব ক্ষুধা পেয়েছিল এবং ভালো কিছু খেলে মনটাও ভালো থাকে, ব্যস।’

সমালোচকদের কঠোর সমালোচনা করে দাহিয়া আরও বলেন, আন্দোলনের পেছনের কঠোর পরিশ্রমকে খাটো করে দেখা হচ্ছে। তিনি টানা দুই রাত ঘুমাননি ও গোসল সেরে ক্ষুধা লাগায় খাবার খেতে গিয়েছিলেন বলে জানান।

তবে সিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজপথে চলমান দাবির আন্দোলনের মুখে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিপূজা বা অসংবেদনশীল আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।