Advertisement

জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে ঘাড় ধরতে বাধ্য হব: মামুনুল হক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিলেট
জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে ঘাড় ধরতে বাধ্য হব: মামুনুল হক
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে ঘাড় ধরতে সময় লাগবে না।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেটে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফ্যাসিবাদী আমলের খুনিদের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মামুনুল হক বলেন, যেই জুলাই বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন, সেই জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে যদি গাদ্দারি করেন, ক্ষমতার মসনদে থাকার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না। জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না। দোহাই লাগে আপনাদের প্রথমে পায়ে ধরে বলব, তারপরে হাতে ধরে বলব। যদি পায়ে ধরে হাতে ধরে বললে কথা না শুনেন, ঘাড় ধরতে আমাদের এতটুকু হাত কেঁপে উঠবে না।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনও বলছি, গণভোটের গণরায় মেনে নিন। জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করুন। জনগণ যেভাবে ভোটে ম্যান্ডেট প্রদান করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন। অন্যথায় রাজপথে আপনাদেরকে আমরা মোকাবিলা করব।

গণভোটে জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে পরিণতির বিষয়ে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আমি আপনাদেরকে, ১৯৭০ এর জাতীয় নির্বাচনের গণরায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা, পরিণামে মুক্তিযুদ্ধকে তাদের ফেস করতে হয়েছিল এবং বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল...৭০ শতাংশ জনগণের এই ম্যান্ডেটের সঙ্গে যদি আপনারা বিশ্বাসঘাতকতার এই ধারা অব্যাহত রাখেন, আপনাদের পরিণাম পশ্চিম পাকিস্তানি সৈরগোষ্ঠী এবং শেখ হাসিনার চেয়ে ভিন্ন কিছু হওয়ার কথা নয়।

সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ভোট প্রদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, আমরা বলেছিলাম শেখ হাসিনার ল্যাসপেন্সার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রশ্নতে থাকতে পারে না। আপনারা আমাদের কথা শুনলেন না। আপনারা পানি ঘোলা করে খেতে পছন্দ করেন। আজ যখন সে রাষ্ট্রপতির মসনদে বসে আপনাদেরকে ছোবল মারতে উদ্যত হয়েছে, তখন স্পিকারকে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে হাসপাতাল থেকে ডেকে এনে সেই চুপ্পুকে আপনারা বিদায় করলেন। তিনি গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের ব্যাপারে পানি ঘোলা না করার অনুরোধ জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

বিষয় :সিলেট