পাহাড়ধসের শঙ্কা, কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরাতে নির্দেশ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় কক্সবাজারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সব উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেক উপজেলায় উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার যে কোনো প্রান্তে জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেলে এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খুব শিগগিরই জেলা প্রশাসনের জরুরি যোগাযোগ নম্বরও প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে শুকনো খাবার, পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকেরাও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও বড় পরিসরে পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, তবে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদর পৌর এলাকায় একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেবাদানকারী সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজ নিজ প্রস্তুতি ও করণীয় তুলে ধরেন।





