বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন আরেক ব্রাজিল তারকা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন আরেক ব্রাজিল তারকা
দানিলো। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সেলেসাও শিবিরে যেন এক যুগের শেষের আবহ। নেইমারের পর এবার জাতীয় দল নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো। বয়স, শরীর ও আধুনিক ফুটবলের চাহিদা বিবেচনায় ব্রাজিলের জার্সিতে ২০২৬ বিশ্বকাপই তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয়ে থাকতে পারে।

নিউ জার্সিতে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারে ব্রাজিল। সেই হারের পর সাংবাদিকদের সামনে দানিলোর কণ্ঠে ছিল হতাশা, কৃতজ্ঞতা ও বিদায়ের সুর। আগামী সপ্তাহে ৩৫ বছরে পা দিতে যাওয়া এই ডিফেন্ডার জানান, বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। এখন থেকে তিনি হয়তো গ্যালারির প্রথম সারিতে বসে ব্রাজিলকে সমর্থন করবেন।

দানিলো বলেন, বয়স ও বর্তমান ফুটবলের গতি বিবেচনা করলে সিদ্ধান্তটি স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। জীবনে যা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেই এত দূর এসেছেন, আর সেই বিশ্বাস নিয়েই সবাইকে নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে বলেন তিনি।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের সুযোগ ছিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, কিন্তু ব্রুনো গিমারায়েসের শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধেও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। তবে শেষ দিকে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যায় নরওয়ের হাতে। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করলেও সেটি শুধু ব্যবধান কমায়।

হারের ব্যাখ্যায় অজুহাত খুঁজতে চাননি দানিলো। তার মতে, ব্রাজিল চাইলে ম্যাচটি জিততেও পারত, কিন্তু ফুটবলে শুধু সুযোগ তৈরি করলেই হয় না, তা কাজে লাগাতেও হয়। নরওয়ে তাদের সুযোগগুলো ভালোভাবে ব্যবহার করেছে, আর সেখানেই পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অবস্থাও ম্যাচের পর ভালো ছিল না বলে জানান দানিলো। তার ভাষায়, আনচেলত্তি ইতালিয়ান হলেও ব্রাজিল দলের সঙ্গে তার আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দলের সবার মতো তিনিও এই বিদায়ে গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছেন।

এর আগে নরওয়ে ম্যাচের পর নেইমারও জাতীয় দল নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে ২০১০ সালে ব্রাজিলের হয়ে তার পথচলা শুরু হয়েছিল, সেখানেই হয়তো শেষ হলো তার জাতীয় দল-অধ্যায়। এবার দানিলোর মন্তব্যে ব্রাজিল দলে প্রজন্ম বদলের আলোচনা আরও জোরালো হলো।

এই পরাজয় ব্রাজিলের জন্য শুধু একটি ম্যাচের হার নয়। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিল তারা। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি সেলেসাওদের। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপেক্ষা বাড়লে সেই খরা দাঁড়াবে ২৮ বছরে।

নেইমার, দানিলো, কাসেমিরো, আলিসন, মারকিনিওসদের প্রজন্ম ব্রাজিলকে অনেক আশা দেখিয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেনি। নরওয়ের বিপক্ষে সেই অপূর্ণতার রাতেই তাই শুরু হলো নতুন প্রশ্ন, ২০৩০-এর পথে ব্রাজিলের নতুন মুখ কারা?