পটলের বীজ ফেলে দিচ্ছেন, জানুন বিজ্ঞান যা বলছে

পটল রান্না করার সময় অনেকেই ভেতরের বীজ ফেলে দেন। কারণ অনেকের ধারণা, এই অংশের তেমন কোনো উপকার নেই। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, পটলের বীজও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখতে পারে।
অবশ্য শুধু পটলের বীজ খেয়েই কোনো রোগ প্রতিরোধ বা নিরাময় করা সম্ভব নয়। তবে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে এটি খেলে হজম ভালো রাখা, শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানো এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তাই পটলের বীজ ফেলে দেওয়ার আগে জেনে নিন কেন এটি খাওয়া উপকারী হতে পারে।
হজমে সাহায্য করতে পারে: পটলের বীজে থাকা খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত পর্যাপ্ত আঁশ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমতে পারে এবং হজম ভালো থাকতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: পটল ও এর বীজে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে: পটলের বীজে থাকা আঁশ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু পটলের বীজ খেয়েই কোলেস্টেরল কমে যায়, এমন প্রমাণ নেই।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে: আঁশযুক্ত খাবার সাধারণভাবে রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা ধীর করতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু পটলের বীজের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
রোগ প্রতিরোধে সহায়ক পুষ্টি দেয়: পটলে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্ষাকালে পটল খাওয়ার উপকারিতা
বর্ষায় সহজপাচ্য ও তাজা সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। পটল সেই তালিকার একটি ভালো সবজি। তবে এটি কোনোভাবেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার ও হাত ধোয়ার অভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কারা সতর্ক থাকবেন?
পটলের বীজের বাইরের আবরণ কিছুটা শক্ত হতে পারে। তাই যাদের হজমের সমস্যা, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) বা অন্ত্রের সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা বেশি পরিমাণে বীজ খেলে পেটে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
পটলের বীজ অযথা ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে এটি খেলে খাদ্যআঁশ ও কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের ওষুধ নয়। সুস্থ থাকতে পটলের পাশাপাশি অন্যান্য শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, ডিম ও পূর্ণ শস্যসহ বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮





