ড্রাগন ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানালেন বিশেষজ্ঞ

একসময় ড্রাগন ফলকে অনেকটাই দুর্লভ ফল মনে করা হতো। এখন দেশের অনেক সুপারশপ থেকে শুরু করে ফলের দোকানেও এটি সহজেই পাওয়া যায়। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের খোসা আর ছোট ছোট কালো বীজে ভরা সাদা বা লাল শাঁসের কারণে ফলটি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়ে। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
তবে অনেকেই ড্রাগন ফল কিনতে গিয়ে একটু দ্বিধায় পড়েন। শক্ত ও আঁশযুক্ত খোসা দেখে মনে হয়, এটি কাটতে বা খেতে হয়তো বেশ ঝামেলা। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি একেবারেই উল্টো। সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে খুব সহজেই ড্রাগন ফলের খোসা ছাড়িয়ে এর মিষ্টি ও রসালো শাঁস উপভোগ করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিভিত্তিক ট্রপিক্যাল ফল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রপিক্যাল ফ্রুট বক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ডিজাইরি পার্দো মোরালেস ড্রাগন ফল বেছে নেওয়া, কাটার পদ্ধতি এবং খাওয়ার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
ড্রাগন ফল আসলে কী?
ড্রাগন ফল দেখতে বড় ও ভারী হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি বেরি জাতীয় ফল। সাধারণত একটি ফলের ওজন প্রায় আধা কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
এই ফল জন্মায় রাতে ফুল ফোটা বিশেষ ধরনের আরোহী ক্যাকটাস গাছে। উদ্ভিদবিজ্ঞানে এগুলো হাইলোসেরিয়াস এবং সেলেনিসেরিয়াস গণের অন্তর্ভুক্ত।
ড্রাগন ফলের মোটা, চামড়ার মতো খোসা এবং আঁশযুক্ত বাহ্যিক গঠন থেকেই এর নামকরণ। দেখতে অনেকটা পৌরাণিক কাহিনির আগুন ছোড়া ড্রাগনের মতো বলেই এর নাম হয়েছে ড্রাগন ফল।
স্বাদের দিক থেকে এটি নাশপাতি ও কিউই ফলের মাঝামাঝি। তবে কোন জাতের ড্রাগন ফল খাচ্ছেন, তার ওপর স্বাদে কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং মেক্সিকো এই ফলের আদি নিবাস। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও হাওয়াই ছাড়াও ভিয়েতনাম, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও এর চাষ হয়।
ভালো ড্রাগন ফল চিনবেন কীভাবে?
তাজা ও সুস্বাদু ড্রাগন ফল বেছে নিতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
ফলের খোসা যেন উজ্জ্বল ও সমান রঙের হয়। হাতে নিলে সামান্য নরম অনুভূত হওয়া ভালো, অনেকটা পাকা অ্যাভোকাডোর মতো।
খোসায় অতিরিক্ত বাদামি দাগ থাকলে বা ফলটি যদি খুব শুকনো ও কুঁচকে যাওয়া মনে হয়, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো।
ড্রাগন ফলের বিভিন্ন জাত
সাদা ড্রাগন ফল: এটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। বাইরের খোসা উজ্জ্বল গোলাপি এবং ভেতরের শাঁস সাদা রঙের। শাঁসজুড়ে থাকে ছোট ছোট কালো বীজ, যা অনায়াসে খাওয়া যায়। এই জাতটি তুলনামূলক কম মিষ্টি। একে অনেক জায়গায় পিটায়া বা পিটাহায়া নামেও ডাকা হয়।
হলুদ ড্রাগন ফল: এই জাতের বাইরের খোসা হলুদ হলেও ভেতরের শাঁস সাদা। আকারে এটি সবচেয়ে ছোট এবং স্বাদে সবচেয়ে বেশি মিষ্টি।
বেগুনি ড্রাগন ফল: এই ফলের শাঁস গাঢ় বেগুনি বা ম্যাজেন্টা রঙের এবং বাইরের খোসা উজ্জ্বল গোলাপি। এটি তুলনামূলক বিরল।
লাল ড্রাগন ফল: এই জাতের খোসা গাঢ় গোলাপি থেকে লাল রঙের হয়। ভেতরের শাঁস উজ্জ্বল লাল এবং স্বাদে সামান্য টকভাব থাকে।
যেভাবে খেলে সবচেয়ে ভালো লাগবে
ড্রাগন ফল এমনিতেই সুস্বাদু। তবে চাইলে নানা ধরনের খাবারের সঙ্গেও এটি খেতে পারেন।
- ঠান্ডা করে শুধু ড্রাগন ফল খাওয়া যায়। আবার প্যাশন ফ্রুট, আম, আনারস বা অ্যাভোকাডোর সঙ্গে মিশিয়েও ফলের সালাদ তৈরি করা যায়।
- সবজির সালাদে ছোট ছোট টুকরো করে দিলে স্বাদ ও রঙ দুটোই বাড়ে।
- আইসক্রিমের ওপর ড্রাগন ফলের স্লাইস সাজিয়ে পরিবেশন করলে খেতে আরও মজাদার লাগে।
- সকালের নাশতায় দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
- স্মুদি তৈরির সময় আম, কলা বা অ্যাভোকাডোর সঙ্গে কয়েক টুকরো তাজা কিংবা হিমায়িত ড্রাগন ফল যোগ করলে স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই বেড়ে যায়।
- বিভিন্ন ফলভিত্তিক পানীয় বা মকটেলেও ড্রাগন ফল ব্যবহার করা যায়।
পুষ্টিগুণেও এগিয়ে
ড্রাগন ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। তাই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। একই সঙ্গে এর হালকা মিষ্টি স্বাদ এবং সতেজ অনুভূতি গরমের দিনে এটি আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
পরেরবার বাজারে ড্রাগন ফল দেখলে আর দ্বিধা করার প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে বেছে নিয়ে সহজ নিয়মে কেটে পরিবেশন করলেই এই রঙিন ও পুষ্টিকর ফলের স্বাদ পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব।
সূত্র: মার্থা স্টুওয়ার্ট





