গ্লোবাল ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর সেরা পাঁচে কানাডিয়ান-বাংলাদেশি মাদিহা তুরশীন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গ্লোবাল ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর সেরা পাঁচে কানাডিয়ান-বাংলাদেশি মাদিহা তুরশীন
কানাডিয়ান-বাংলাদেশি মাদিহা তুরশীন। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচ প্রতিযোগীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কানাডিয়ান-বাংলাদেশি সমসাময়িক রন্ধনশিল্পী শেফ মাদিহা তুরশীন। প্রকৃতি, টেকসই উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যনির্ভর আধুনিক রন্ধনশৈলীর জন্য তিনি এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

বিশ্বখ্যাত জেমস বিয়ার্ড ফাউন্ডেশনের সমর্থনে এবং খ্যাতিমান মার্কিন শেফ ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব কার্লা হলের উপস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান রন্ধনশিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। সেরা পাঁচের (টপ-৫) তালিকায় শেফ মাদিহা তুরশীনের স্থান করে নেওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী কুলিনারি দর্শনের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।

শেফ মাদিহার রন্ধনশৈলীর প্রধান বিশেষত্ব হলো প্রকৃতি, শিল্প ও সংস্কৃতিকে একসঙ্গে ধারণ করা। তিনি প্রতিটি খাবারের পরিবেশনাকে একটি জীবন্ত শিল্পকর্মে রূপ দেন। খাদ্যোপযোগী ফুল, বুনো ভেষজ এবং মৌসুমি উদ্ভিদ উপাদানকে তিনি শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়; বরং স্বাদ, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন। তার প্রতিটি পরিবেশনা মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে সমানভাবে স্পর্শ করার লক্ষ্যেই তৈরি হয়।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ‘লে কর্দঁ ব্লু’-এর গ্রঁ ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম থেকে উচ্চতর রন্ধনশিল্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শেফ মাদিহা। সেখানে তিনি ধ্রুপদি ফরাসি কুলিনারি কৌশলের সঙ্গে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্যঐতিহ্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

বাংলাদেশ, কানাডা ও থাইল্যান্ডে বসবাসের অভিজ্ঞতা তার রন্ধনচিন্তাকে দিয়েছে বৈশ্বিক মাত্রা। তার কাজ মূলত ‘ডায়াসপোরা কুইজিন’-কে কেন্দ্র করে, যেখানে অভিবাসন, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার নতুন রূপ পেলেও তার শেকড় অটুট থাকে।

টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতিও রয়েছে এই রন্ধনশিল্পীর গভীর অঙ্গীকার। একজন প্রকৃতিপ্রেমী ‘ফরেজার’ হিসেবে তিনি নিয়মিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে খাদ্যোপযোগী ফুল, মৌসুমি ভেষজ ও বুনো উদ্ভিদ সংগ্রহ করে রান্নায় ব্যবহার করেন। কানাডার টরন্টোতে এল্ডারফ্লাওয়ার সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মৌসুমি ভোজ্য উদ্ভিদের ব্যবহার তাঁর রন্ধনশৈলীকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি।

মাদিহা তুরশীন বিশ্বাস করেন, প্রকৃতি কেবল খাদ্য উপাদানের উৎস নয়, বরং সৃজনশীল রন্ধনশিল্পের অন্যতম অংশীদার। নিজের কুলিনারি প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াম মোমেন্টস’-এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে খাদ্যের মাধ্যমে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে কাজ করছেন। তার প্রতিটি সৃজনশীল পরিবেশনায় ঋতুভিত্তিক উপাদান, জীববৈচিত্র্য, শিল্প এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির সমন্বয় ঘটে, যা আধুনিক গ্যাস্ট্রোনমিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আগামী ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার জনভোট চলবে। বাংলাদেশ, কানাডাসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সমর্থকেরা ভোট দিয়ে শেফ মাদিহা তুরশীনকে ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর গ্রুপ ফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিটি ভোট তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্যঐতিহ্য এবং টেকসই কুলিনারি দর্শনকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।