ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখতে মানুন এই নিয়মগুলো

ফ্রিজে খাবার রাখলেই সেটি অনেক দিন সতেজ থাকবে, এমন ধারণা অনেকেরই। কিন্তু সঠিক নিয়ম না মানলে ফ্রিজে রাখা খাবারও দ্রুত স্বাদ, গুণগত মান ও সতেজতা হারাতে পারে। এমনকি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাবার ফ্রিজে রাখাই যথেষ্ট নয়। কোন খাবার কোথায় রাখবেন, কীভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং কতটা পরিষ্কার রাখবেন, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে খাবার দীর্ঘ সময় সতেজ রাখা যায় এবং অপচয়ও কমে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখতে কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত।
ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখুন
খাবার ভালো রাখতে ফ্রিজের তাপমাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রায় ৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট রাখা সবচেয়ে উপযুক্ত। শুধু ডায়ালের সেটিং দেখে নিশ্চিন্ত না হয়ে চাইলে একটি ফ্রিজ থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বাস্তব তাপমাত্রা অনেক সময় সেটিংয়ের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
কোনো কিছু পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করুন
ফ্রিজের ভেতরে পানি, দুধ, কাঁচা মাংসের রস বা অন্য কোনো তরল পড়ে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করুন। এ ধরনের আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি শুধু পানি জমে থাকলেও জীবাণু বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
সবজি রাখার ড্রয়ার নিয়মিত পরিষ্কার করুন
ফ্রিজের সবচেয়ে বেশি ময়লা জমে থাকে সবজি রাখার ড্রয়ারে। বিশেষ করে ড্রয়ারের কোণা, খাঁজ এবং রাবারের অংশে সহজে জীবাণু ও ছত্রাক জমে। তাই নিয়মিত ড্রয়ার খুলে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং শুকিয়ে আবার ব্যবহার করুন।
ফল ও সবজি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন
ফ্রিজের ক্রিসপার ড্রয়ার থাকলে সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। পাতাযুক্ত সবজি ও শাক উচ্চ আর্দ্রতার ড্রয়ারে রাখলে বেশি দিন সতেজ থাকে।
অন্যদিকে আপেল, নাশপাতি বা কলার মতো ফল থেকে ইথিলিন গ্যাস বের হয়। এসব ফল কম আর্দ্রতার ড্রয়ারে রাখলে গ্যাস সহজে বের হয়ে যেতে পারে এবং অন্যান্য খাবার দ্রুত পাকতে বা নষ্ট হতে বাধা দেয়।
সবজি ধুয়ে ভেজা অবস্থায় ফ্রিজে রাখবেন না
অনেকেই বাজার থেকে এনে সবজি ধুয়ে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু ভেজা অবস্থায় রাখলে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে। যদি আগে ধুয়েই রাখতে চান, তাহলে অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর সংরক্ষণ করুন।
আগে নষ্ট হওয়ার খাবার আগে খেয়ে ফেলুন
খেয়াল রাখবেন, সব খাবারের সংরক্ষণকাল এক রকম নয়। বেরি, লেটুস, পালং শাক বা অন্যান্য পাতাযুক্ত সবজি দ্রুত নষ্ট হয়। তাই সপ্তাহের শুরুতেই এগুলো খাওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যদিকে গাজর, বাঁধাকপি বা আপেলের মতো তুলনামূলক শক্ত সবজি ও ফল পরে খেলেও সমস্যা হয় না।
ফ্রিজের নিচের তাকের দিকে বেশি নজর দিন
গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় ফ্রিজের নিচের তাকেই সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমে। বিশেষ করে কাঁচা মাংস রাখলে সেখান থেকে তরল বের হয়ে অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কাঁচা মাংস সবসময় ঢাকনাযুক্ত পাত্রে বা সিল করা ব্যাগে রেখে নিচের তাকেই সংরক্ষণ করুন।
দরজার তাকের বদলে ভেতরের তাক ব্যবহার করুন
ফ্রিজের দরজা সবচেয়ে বেশি খোলা-বন্ধ হয়। ফলে এখানকার তাপমাত্রা বারবার পরিবর্তিত হয়। দুধ, দই বা দ্রুত নষ্ট হওয়ার খাবার দরজায় না রেখে ভেতরের তাকগুলোতে রাখলে সেগুলো তুলনামূলক বেশি সময় ভালো থাকে।
ফ্রিজে কী ধরনের জীবাণু থাকতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজে সাধারণত এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক থাকে, যেগুলো খাবার নষ্ট করে। এছাড়া কিছু রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুও টিকে থাকতে পারে। এর মধ্যে লিস্টেরিয়া নামের একটি ব্যাকটেরিয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঠান্ডা তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। তাই ফ্রিজে খাবার রাখলেও নিরাপদ সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
ফ্রিজকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখা প্রায় অসম্ভব। তবে নিয়মিত পরিষ্কার করা, সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে জীবাণুর সংখ্যা অনেকটাই কমানো যায়।
এই ছোট ছোট অভ্যাস শুধু খাবারকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখবে না, একই সঙ্গে খাদ্য অপচয় কমাবে এবং পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
সূত্র: সিরিয়াস ইটস






