ইসরায়েল থেকে মাত্র ১ ডলারে ফিলিস্তিনি জমির দখল নিল যুক্তরাষ্ট্র

স্বাধীন ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড জেরুজালেমের এক খণ্ড জমি দলখদার ইসরায়েলের কাছ থেকে মাত্র ১ ডলারের বিনিময়ে ইজারা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৯৯ বছর ওই জমির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
জানা গেছে, ইসরায়েলের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া জমিতে দূতাবাসের স্থায়ী কার্যালয় চালু করবে তারা।
বুধবার (১ জুলাই) জেরুজালেমে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস চত্বর নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেরুজালেমের মেয়র মোশে লায়নের উপস্থিতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের জন্য জমিটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইজারা দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রতীকীভাবে ১ মার্কিন ডলার পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত হাকাবি।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এরপর ২০১৮ সালের মে মাসে জেরুজালেমে দূতাবাসের অস্থায়ী কার্যালয় চালু হয়।
সে সময় ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকদের মতে, এটি জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের পরিপন্থি।
২০২২ সালে ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ দাবি করে, নতুন দূতাবাস চত্বরের জন্য বরাদ্দ করা জমি ১৯৫০ সালের ‘অনুপস্থিতদের সম্পত্তি আইন’-এর আওতায় ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
সংস্থাটির দাবি, সংরক্ষণাগারের নথি অনুযায়ী ১৯৪৮ সালের আগে জমিটি কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের মালিকানাধীন ছিল। পরে তা ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষের কাছে ইজারা দেওয়া হয়।
আদালাহর মতে, মার্কিন দূতাবাস সম্প্রসারণ ও এ জন্য জমি বাজেয়াপ্ত করা আন্তর্জাতিক আইনের, বিশেষ করে হেগ রেগুলেশনের ৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। ওই অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ পূর্ব জেরুজালেমকে ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের দখলে যাওয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। সংস্থাটির অবস্থান হলো, জেরুজালেমের চরিত্র বা আইনি মর্যাদা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেওয়া কোনো পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধতা নেই।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করলেও জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো ইসরায়েলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবেই রেখেছে।
সূত্র: আনাদোলু





