মিড-ডে-মিল/স্কুলে পচা খাবার সরবরাহ, শিক্ষককে নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মেহেরপুর
স্কুলে পচা খাবার সরবরাহ, শিক্ষককে নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন
স্কুলে সরবরাহ করা ডিম। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলে পচা খাবার সরবরাহ করার ঘটনায় শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে–সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় না এনে শিক্ষককে কেন নোটিশ দেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘চোর ধরাই আমার বড় অপরাধ হয়েছে। তাই শোকজ খেয়েছি।’

তবে শোকজে কি জানতে চাওয়া হয়েছে, কার কাছে কত সময়ের মধ্যে কীভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে–এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘চাকরি হারানোর আশঙ্কা’ করে কোনো উত্তর দেননি।

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধের লক্ষ্যে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি মিড-ডে মিল চালু হয়।

কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষীরাভিত্তিক এনজিও ‘সুশীলন’।

অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহ করা হলেও তা গুরুত্ব পায়নি। সর্বশেষ বুধবার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬০ জন শিক্ষার্থীকে বিতরণ করা ডিমের কিছু অংশ পচা এবং কয়েকটি পাউরুটিতে ছত্রাক পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।

এ ধরনের খাবারে স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক উল্লেখ করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, পচা ডিম খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। এতে বমি, ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, মাথা ঘোরা ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের খাবার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই খাবার বিতরণের আগে অবশ্যই মান নিশ্চিত করা জরুরি।

স্কুলে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে এমন একটি এনজিওর এক কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিল-ভাউচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে চাপ ও অনিয়মের সংস্কৃতি রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক চাপ থাকায় মানসম্মত খাদ্য সরবরাহেও প্রভাব পড়ে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় না এনে কেন শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হলো–বিষয়টি নিয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের ফোনে কল দেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার দপ্তরে গেলেও তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র জানান, দুটি ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সমাধানের চেষ্টা চলছে।