সকাল শুরুতেই এই ৭ ভুল করছেন না তো

একটি ভালো সকাল অনেক সময় পুরো দিনের ছন্দ ঠিক করে দেয়। ঘুম থেকে ওঠার পরের কয়েক ঘণ্টায় আপনি কী করছেন, তার প্রভাব পড়তে পারে শরীর, মন এবং কর্মক্ষমতার ওপর।
কিন্তু অজান্তেই এমন কিছু অভ্যাস অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে, যা দিনের শুরুটাকেই নষ্ট করে দেয়। ফলে সারাদিন ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, অতিরিক্ত ক্ষুধা কিংবা খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ফর্টিস এসকর্টস হাসপাতাল, ফরিদাবাদের প্রধান ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট কিরণ দালালের মতে, সুস্থ থাকতে চাইলে দিনের শুরু থেকেই কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস বাদ দেওয়া জরুরি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ৭টি সকালের অভ্যাস আজই পরিবর্তন করা উচিত।
বারবার স্নুজ বাটন চাপা
অ্যালার্ম বাজার পর আবারও স্নুজ বাটন চাপা অনেকেরই অভ্যাস। অনেকেই ভাবেন, আরও পাঁচ বা দশ মিনিট ঘুমালে শরীর আরও সতেজ লাগবে। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টোটা ঘটে।
বারবার ঘুম ভেঙে আবার ঘুমিয়ে পড়লে শরীর ও মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর আরও বেশি ঝিমুনি, ক্লান্তি এবং অলসভাব অনুভূত হতে পারে।
তাই অ্যালার্ম বাজলে চেষ্টা করুন একবারেই বিছানা ছেড়ে উঠতে।
ঘুম থেকে উঠেই কফি খাওয়া
অনেকের দিনের শুরুই হয় এক কাপ গরম কফি দিয়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম থেকে উঠেই কফি খাওয়া সবসময় ভালো অভ্যাস নয়।
চা, কফি, কোকো এবং কিছু কোমল পানীয়ে থাকা ক্যাফেইন অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই সকালে আগে পানি পান করুন, এরপর কিছুক্ষণ পর কফি পান করাই ভালো।
সকালের নাশতা বাদ দেওয়া
অনেকেই মনে করেন, সকালের নাশতা না খেলে দ্রুত ওজন কমবে। কিন্তু গবেষণা বলছে, সকালের নাশতা বাদ দিলে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
যারা নিয়মিত সকালের নাশতা খান, তারা সাধারণত বেশি ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গ্রহণ করেন এবং তুলনামূলকভাবে কম চর্বিযুক্ত খাবার খান। সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো প্রতিদিন পুষ্টিকর সকালের নাশতা খাওয়া।
সকালে কোনো শারীরিক নড়াচড়া না করা
ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা একেবারেই শরীরচর্চা না করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভাবে ওজন বেড়ে যাওয়া, স্থূলতা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিছু ধরনের ক্যানসার, হাঁপানি, হাড় ক্ষয়, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সকালে পানি না পান করা
সারারাত ঘুমানোর পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে পর্যাপ্ত পানি না খেলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা দুর্বল লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘুম থেকে উঠে এক থেকে দুই গ্লাস পানি পান করলে শরীর আর্দ্র থাকে, হজম ভালো হয়, শক্তি বাড়ে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল হতে সাহায্য করে।
দিনের শুরুতে ধূমপান করা
কিছু মানুষের দিনের প্রথম কাজই হলো সিগারেট ধরানো। কিন্তু এই অভ্যাস শুধু ফুসফুস নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে। ধূমপান ক্যানসার, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
সকালে ধূমপানের বদলে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ধীরে ধীরে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হতে পারে।
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোন দেখা
অনেকেই চোখ খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মোবাইল হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, খবর বা বার্তা দেখতে শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দিনের শুরুতেই মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত তথ্যের চাপে ফেলে।
ফলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে, মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং সারাদিনের উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দিনের শুরুতে কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন। মোবাইল দেখার আগে পানি পান করুন, জানালার বাইরে তাকান, হালকা স্ট্রেচিং করুন অথবা কয়েক মিনিট শান্তভাবে বসে থাকুন।
সুস্থ থাকার জন্য বড় কোনো পরিবর্তন সব সময় দরকার হয় না। অনেক সময় ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই সকালে বারবার ঘুমানো, নাশতা বাদ দেওয়া, পানি না খাওয়া কিংবা ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের মতো অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে বদলানোর চেষ্টা করুন।
একটি সুন্দর সকাল শুধু দিনটাকেই ভালো করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনকেও সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: হেল্থ শটস







