ব্লাড প্রেশার নিয়ে যা জানা জরুরি

আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচকগুলোর একটি হলো ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ। অনেকেই মনে করেন, শুধু বয়স্কদেরই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা হয়। কিন্তু বাস্তবে যেকোনো বয়সের মানুষই উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপে ভুগতে পারেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ক্ষতি করতে থাকে। তাই ব্লাড প্রেশার কী, স্বাভাবিক মাত্রা কত, কখন চিন্তার কারণ এবং কীভাবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে সম্পর্কে সবারই ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ব্লাড প্রেশার কী
হৃদপিণ্ড যখন রক্ত পাম্প করে, তখন রক্ত ধমনীর দেয়ালে একটি চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপকেই ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ বলা হয়।
ব্লাড প্রেশার দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। যেমন ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি (mmHg)।
প্রথম সংখ্যাটি হলো সিস্টোলিক প্রেশার। এটি হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ।
দ্বিতীয় সংখ্যাটি হলো ডায়াস্টোলিক প্রেশার। এটি হৃদপিণ্ড দুটি স্পন্দনের মাঝখানে বিশ্রামে থাকাকালীন চাপ।
কোন ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক?
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নিচের মাত্রাগুলো অনুসরণ করা হয়।
স্বাভাবিক: ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি (mmHg) -এর নিচে
স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি: সিস্টোলিক ১২০ থেকে ১২৯ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০-এর নিচে
উচ্চ রক্তচাপের প্রথম ধাপ: সিস্টোলিক ১৩০ থেকে ১৩৯ অথবা ডায়াস্টোলিক ৮০ থেকে ৮৯
উচ্চ রক্তচাপের দ্বিতীয় ধাপ: সিস্টোলিক ১৪০ বা তার বেশি অথবা ডায়াস্টোলিক ৯০ বা তার বেশিবিপজ্জনক অবস্থা: ১৮০/১২০ মিলিমিটার মার্কারি (180/120 mmHg) -এর বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন, দুটি সংখ্যার মধ্যে একটি বেশি হলেও সেটি উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
লো ব্লাড প্রেশার কাকে বলে?
সাধারণভাবে ৯০/৬০ মিলিমিটার মার্কারি (90/60 mmHg) বা তার নিচের রক্তচাপকে লো ব্লাড প্রেশার বলা হয়।
তবে শুধু সংখ্যা দেখেই সবসময় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কারও রক্তচাপ কম হলেও যদি কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। কিন্তু মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা মতো উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কীভাবে সঠিকভাবে ব্লাড প্রেশার মাপবেন?
সঠিক ফল পাওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি।
- মাপার আগে অন্তত ৫ মিনিট শান্তভাবে বসে থাকুন।
- পা মেঝেতে সোজা রাখুন এবং পিঠ চেয়ারে ঠেকিয়ে বসুন।
- হাত টেবিলের ওপর এমনভাবে রাখুন যেন তা হৃদপিণ্ডের সমান উচ্চতায় থাকে।
- মাপার আগে চা, কফি, ধূমপান বা ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
- একবার মাপার পর এক মিনিট বিরতি দিয়ে আবার মাপতে পারেন।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
যদি ব্লাড প্রেশার ১৮০/১২০ মিলিমিটার মার্কারি (180/120 mmHg) - এর বেশি হয় এবং এর সঙ্গে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে।
- তীব্র বুকব্যথা
- শ্বাস নিতে কষ্ট
- কথা বলতে সমস্যা
- হাত বা পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব
- হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
- তীব্র পিঠব্যথা
এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ব্লাড প্রেশার এমন একটি বিষয়, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতন থাকলেই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ।
সূত্র: হেলথলাইন







