ইসরায়েলি নৃশংসতায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফিলিস্তিনি চিকিৎসক আবু সাফিয়া

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইসরায়েলি নৃশংসতায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফিলিস্তিনি চিকিৎসক আবু সাফিয়া
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি চিকিৎসক আবু সাফিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপ গাজা উপত্যকা। নারকীয় গণহত্যায় পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার। ফিলিস্তিনের এই উপত্যকাটির কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়া। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হন। সেই থেকে জায়নবাদী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। পাশবিক নির্যাতনের মধ্যে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন এই চিকিৎসক।

শনিবার (৪ জুলাই) ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, অধিকার গোষ্ঠী ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের আইনজীবী নাসের ওদেহ গত ২ জুলাই ইসরায়েলের নিতজান কারাগারের রাকেফেত আটক কেন্দ্রে আবু সাফিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তার শরীরে গুরুতর আঘাত, শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট দেখতে পান এই আইনজীবী। এ ছাড়াও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং সাক্ষারেত সময় বারবার জ্ঞান হারান এই বন্দি।

মানবাধিকার সংগঠনটির আইনজীবী ওদেহ বলেন, আবু সাফিয়াকে দুই হাত ও পা শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। একদল মুখোশধারী কারারক্ষীদের পাহারায় তাকে সাক্ষাতের জন্য আনা হয়েছিল। তার মাথা, চোখ, কান ও ঘাড়ের চারপাশে নতুন আঘাত এবং গুরুতর কালশিটে দেখা যায়। আবু সাফিনের শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছিল যে, তাকে দেখতে ভয়ঙ্কর লাগছিল, চেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, আবু সাফিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি ইসরায়েল। এমনকি বিনা বিচারে তথা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অন্যায়ভাবে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। আবু সাফিয়াসহ ইসরায়েলি আটক শিবিরে বন্দি সকল চিকিৎসকের মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির বন্দি ও আটক বিভাগের প্রধান নাজি আব্বাস বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবু সাফিয়ার জীবন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা যতগুলো তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি, তার মধ্যে আইনজীবী ওদেহের বর্ণনাটি সবচেয়ে উদ্বেগজনক।

তিনি উল্লেখ করেন, আবু সাফিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাকে আটকাবস্থায় হত্যা করা হতে পারে।

আব্বাস আরও বলেন, আদালতে নিজের আটকাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার পর আবু সাফিয়ার অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং এই ঘটনার অবিলম্বে ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সকল বন্দির স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে দায়ী। এ জন্য দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি।

২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়াকে আটক করে। এর আগে তারা হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে বন্দুকের মুখে তাকে বাইরে বের করে আনে এবং প্রতিষ্ঠানটির বড় অংশকে অকার্যকর করে দেয়।

ওই বছর ২৪ নভেম্বর হাসপাতাল লক্ষ্য করে চালানো এক ইসরায়েলি হামলায় আবু সাফিয়া আহত হন। কিন্তু তিনি হাসপাতাল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এর আগে ২৬ অক্টোবর এক ইসরায়েলি অভিযানে নিজের পুত্রকে হারানোর পরেও রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যান।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্যাতন ও চিকিৎসার অবহেলার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আবু সাফিয়াকে একজন ‘অবৈধ যোদ্ধা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। ২০২৬ সালের ৩ জুন ফিলিস্তিনি বন্দি গণমাধ্যম দপ্তর ঘোষণা করে যে, তাকে নির্জন কারাবাসে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু