কোন বয়সে বিয়ে করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি কম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কোন বয়সে বিয়ে করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি কম
ছবি : সংগৃহীত

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি দায়িত্বও। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, বিয়ের জন্য আদর্শ বয়স কি সত্যিই আছে? খুব কম বয়সে বিয়ে করলে কি বিচ্ছেদের ঝুঁকি বেশি থাকে? আবার অনেক দেরিতে বিয়ে করলেও কি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায়?

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বয়স দিয়ে একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি বয়সসীমায় বিয়ে করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এর পেছনে মানসিক পরিপক্বতা, জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মার্কিন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও মনোচিকিৎসক লরি গটলিবের মতে, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করলে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব, পছন্দ-অপছন্দ এবং জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যান। ফলে সঙ্গী নির্বাচন এবং সম্পর্কের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বেশি প্রস্তুত থাকেন।

গবেষণা কী বলছে?

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করলে ২০ বছর বয়সে বিয়ে করা ব্যক্তিদের তুলনায় বিচ্ছেদের ঝুঁকি ৫০ শতাংশেরও বেশি কম হতে পারে।

এ ছাড়া ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি অতিরিক্ত বছরে বিয়ে করলে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা গড়ে প্রায় ১১ শতাংশ করে কমতে দেখা গেছে। তবে ৩২ বছরের পর থেকে প্রতি অতিরিক্ত বছরে সেই ঝুঁকি আবার কিছুটা বাড়তে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গবেষকরা এটিও মনে করিয়ে দেন যে এগুলো পরিসংখ্যানগত প্রবণতা। সব মানুষের ক্ষেত্রে একই ফল প্রযোজ্য হবে, এমন নয়।

খুব কম বয়সে বিয়ের ঝুঁকি কেন বেশি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে অনেকেরই মানসিক পরিপক্বতা পুরোপুরি গড়ে ওঠে না। তখন নিজের চাহিদা, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা সম্পর্ক পরিচালনার দক্ষতাও পুরোপুরি তৈরি নাও হতে পারে।

এ কারণে দাম্পত্য জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বেশি বয়সে বিয়ে করলে কী সমস্যা হতে পারে?

লরি গটলিবের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ নিজের অভ্যাস ও জীবনধারায় বেশি অভ্যস্ত হয়ে যান। নতুন কারও সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তখন তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া আগের সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতা, ভাঙা বিশ্বাস বা মানসিক আঘাতও নতুন সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় মানুষ অজান্তেই আগের অভিজ্ঞতার ছায়া বর্তমান সম্পর্কে নিয়ে আসেন।

প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা জরুরি?

লরি গটলিব আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তার মতে, প্রথম দেখাতেই প্রবল আকর্ষণ অনুভব না হলেও সম্পর্ক সফল হতে পারে।

অনেক সুখী দম্পতির ক্ষেত্রেই প্রথম বা দ্বিতীয় সাক্ষাতে বিশেষ কোনো রোমান্টিক অনুভূতি তৈরি হয়নি। বরং ধীরে ধীরে একে অপরকে জানার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক গভীর হয়েছে।

তার পরামর্শ, প্রথম সাক্ষাতের পর নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন, এই মানুষটির সঙ্গে সময় কাটিয়ে কি ভালো লেগেছে? যদি উত্তর ইতিবাচক হয়, তাহলে আরেকটি সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

শুধু বয়স নয়, আরও যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল দাম্পত্যের জন্য বয়সের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • মানসিক পরিপক্বতা
  • খোলামেলা যোগাযোগ
  • পারস্পরিক শ্রদ্ধা
  • আর্থিক পরিকল্পনা
  • একে অপরের প্রতি আস্থা
  • মতপার্থক্য সামলানোর দক্ষতা
  • জীবনের লক্ষ্য ও মূল্যবোধে মিল

বিয়ের জন্য এমন কোনো বয়স নেই, যা সবার জন্য সমানভাবে আদর্শ। কিছু গবেষণায় ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সকে তুলনামূলক অনুকূল বলা হলেও সেটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো দুই মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান, বিশ্বাস এবং একসঙ্গে সমস্যার সমাধান করার মানসিকতা।

তাই শুধু বয়স দেখে নয়, নিজের মানসিক প্রস্তুতি, সম্পর্কের ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বিবেচনা করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: রিলেশনশিপ রুলস