ব্রাজিলের পিছু ছাড়ছে না ‘বিড়ালের অভিশাপ’

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ব্রাজিলের পিছু ছাড়ছে না ‘বিড়ালের অভিশাপ’
সেই আলোচিত বিড়ালটি। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর মাঠের বিশ্লেষণের পাশাপাশি সামাজিকমাধ্যমে ফিরে এসেছে পুরোনো এক মিম। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সংবাদ সম্মেলনের সেই বিড়ালকাণ্ড। অনেকে রসিকতা করে বলছেন, সেই ঘটনার পর থেকেই যেন ব্রাজিলের পিছু ছাড়ছে না ‘বিড়ালের অভিশাপ’।

ঘটনাটা ২০২২ বিশ্বকাপের। কাতারে ব্রাজিলের এক সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে টেবিলে উঠে পড়েছিল একটি বিড়াল। কিছুক্ষণ পর ব্রাজিল দলের এক মিডিয়া কর্মকর্তা সেটিকে ঘাড়ের দিক থেকে ধরে টেবিল থেকে নামিয়ে দেন। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত অনেকেই অবাক হয়েছিলেন, সামাজিকমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়। কাতারে বিড়ালকে বিশেষ ভালোবাসা ও সম্মানের চোখে দেখা হয়, তাই ঘটনাটি আরও বেশি আলোচিত হয়েছিল।

পরে ব্রাজিল শিবির সেই বিড়ালটিকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। বিড়ালের নাম দেওয়া হয় ‘হেক্সা’, ব্রাজিলের কাঙ্ক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার প্রতীক হিসেবে। কিন্তু সেই হেক্সা আর আসেনি। কয়েক দিন পরই কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল।

সেখান থেকেই শুরু হয় মিমের ভাষায় ‘বিড়ালের অভিশাপ’। অবশ্য ফুটবলের বাস্তব ব্যাখ্যা আছে, কৌশলগত ভুল, মানসিক চাপ, পেনাল্টিতে ব্যর্থতা, কোচিং অস্থিরতা। কিন্তু সামাজিকমাধ্যম যুক্তি দিয়ে চলে না সবসময়। সেখানে গল্প, প্রতীক আর রসিকতাই বেশি চলে। আর ব্রাজিলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সেই মিমকে আরও জোরালো করেছে।

২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে ব্রাজিল এক অস্থির সময় পার করেছে। বিশ্বকাপ বাছাই, প্রীতি ম্যাচ, কোপা আমেরিকা, কোচ পরিবর্তন, বড় ম্যাচে ব্যর্থতা, সব মিলিয়ে সেলেসাওদের সেই পুরোনো দাপট দেখা যায়নি। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে বিদায়, দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইয়ে একাধিক ধাক্কা, আর্জেন্টিনার কাছে ঘরের মাঠে হার, সবই যোগ হয়েছে এই ‘অভিশাপ’ রসিকতায়।

কার্লো আনচেলত্তি আসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ব্রাজিলের পুরোনো ছন্দ ফিরবে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপেও শুরুটা ছিল অস্বস্তির। মরক্কোর সঙ্গে ড্র, এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়, জাপানের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়, আর শেষে নরওয়ের কাছে শেষ ষোলোতেই বিদায়। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই থামল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

নরওয়ে ম্যাচেও ব্রাজিলের ব্যর্থতার বাস্তব কারণ ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস, এন্দ্রিকের সহজ সুযোগ নষ্ট, আক্রমণে অস্থিরতা এবং শেষদিকে রক্ষণের ভেঙে পড়া। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ড দুই সুযোগে দুই গোল করে দেখিয়ে দেন, নকআউট ম্যাচে নির্মম ফিনিশিং কতটা জরুরি।

তবু সামাজিকমাধ্যমের চোখে গল্পটা শুধু ট্যাকটিকসের নয়। কাতারের সেই বিড়াল, তার নাম ‘হেক্সা’, তারপর বারবার ভাঙা ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন, সব মিলিয়ে ব্রাজিলকে নিয়ে রসিকতা থামছে না। কেউ বলছেন, বিড়ালকে অসম্মান করার ফল। কেউ লিখছেন, হেক্সা নামের বিড়ালই নাকি ব্রাজিলের হেক্সা আটকে দিয়েছে।

বাস্তবে কোনো অভিশাপ নয়, ব্রাজিলের সংকট ফুটবলের মাঠেই তৈরি হয়েছে। কিন্তু ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়, এটি স্মৃতি, মিম, কুসংস্কার ও আবেগেরও জায়গা। তাই নরওয়ের কাছে বিদায়ের পর আবারও আলোচনায় সেই পুরোনো প্রশ্ন, ব্রাজিলের পিছু কি সত্যিই ছাড়ছে না ‘বিড়ালের অভিশাপ’?