কেন নেইমার-এন্দ্রিক পার্থক্য গড়ে দিতে পারলেন না?

নরওয়ে ম্যাচে ব্রাজিলের বেঞ্চে দুজনের নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল। একজন নেইমার, এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ব্রাজিলিয়ান মুখ। আরেকজন এন্দ্রিক, ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি, যাকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগ ও প্রত্যাশা অনেক আগে থেকেই তৈরি। নরওয়ের বিপক্ষে যখন ম্যাচ আটকে ছিল, তখন কার্লো আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত তাদের দিকেই ফিরলেন। কিন্তু কেউই ব্রাজিলের ভাগ্য বদলাতে পারলেন না।
এন্দ্রিক মাঠে নামার পরই সুযোগ পেয়েছিলেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাসে প্রায় একা হয়ে গিয়েছিলেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ডের সামনে। কিন্তু প্রথম স্পর্শটাই তাকে গোল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিনি খুব কাছে চলে যান গোলরক্ষকের, এরপর তাড়াহুড়োর ফিনিশিং যায় বাইরে। নকআউট ম্যাচে এমন সুযোগ বারবার আসে না। আর এটাই ছিল ব্রাজিলের রাতের প্রতীক—সুযোগ ছিল, শেষ সিদ্ধান্ত ছিল না।
এই জায়গাতেই পার্থক্য গড়ে দেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের স্ট্রাইকার সারাক্ষণ বল পাননি, কিন্তু বড় সুযোগ এলে ভুল করেননি। প্রথম গোল হেডে, দ্বিতীয়টি বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে। এন্দ্রিক যেখানে বড় মুহূর্তে অস্থির, হালান্ড সেখানে নির্মম। নকআউট ফুটবলে এই নির্মমতাই দলকে বাঁচায়, আর অন্য দলকে বিদায় করে।
নেইমারের গল্পটা আলাদা। তিনি মাঠে নামেন এমন সময়ে, যখন ব্রাজিলের দরকার ছিল ছন্দ, সৃজনশীলতা ও ঠান্ডা মাথার শেষ পাস। কিন্তু চোট, ফিটনেস ও বয়সের ভারে আগের নেইমারকে আর দেখা যায়নি। তিনি বল চেয়েছেন, চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ম্যাচের গতি নিজের হাতে নিতে পারেননি।
যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন নেইমার। সেটি ব্যক্তিগতভাবে বড় মুহূর্ত চার বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তিতে তিনি পেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু গোলটি এসেছে খুব দেরিতে। তখন ব্রাজিল ২-০ পিছিয়ে, সময় প্রায় শেষ। তাই নেইমারের গোল স্কোরলাইন বদলেছে, ম্যাচের গল্প নয়।
আনচেলত্তির ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন থাকবে। এন্দ্রিককে ঘিরে ব্রাজিলে আগেই জনমত তৈরি হয়েছিল। সমর্থকদের বড় অংশ চেয়েছিল তাঁকে আরও বেশি সময় দেওয়া হোক। নেইমারকেও পুরো টুর্নামেন্টে খুব সীমিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই নরওয়ের বিপক্ষে তাদের নামানোটা ছিল এক অর্থে শেষ অস্ত্র ব্যবহার করা। কিন্তু শেষ অস্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন দল তার আগে ম্যাচটাকে বাঁচিয়ে রাখে।
ব্রাজিল সেটি পারেনি। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস, দ্বিতীয়ার্ধে এন্দ্রিকের সুযোগ নষ্ট, আক্রমণে অস্থিরতা এবং শেষদিকে রক্ষণের ভেঙে পড়া সব মিলিয়ে ম্যাচটা হাতছাড়া হয়। নেইমার বা এন্দ্রিক একা এসে এতগুলো সমস্যার সমাধান করতে পারতেন না।
এই ম্যাচ তাই শুধু দুজন বদলি ফুটবলারের ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি ব্রাজিলের পরিকল্পনার ব্যর্থতা, সময়ের ভুল ব্যবহার এবং বড় মুহূর্তে ধারহীনতার গল্প। নেইমার-এন্দ্রিককে নামালেও নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের দরকার ছিল সঙ্গে সঙ্গে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার নির্মমতা। সেটি হালান্ডের মধ্যে দেখা গেছে ব্রাজিলের কারও মধ্যে নয়।





