ব্রাজিল দলকে বিদায় বললেন নেইমার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ব্রাজিল দলকে বিদায় বললেন নেইমার
নেইমার জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির মাঠে একদিন শুরু হয়েছিল নেইমারের ব্রাজিল-যাত্রা। সেই একই জায়গাতেি শেষ হলো সেলেসাওদের জার্সিতে তার গল্প। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর নেইমার ঘোষণা দিয়েছেন এখানেই শেষ।

ম্যাচের শেষ বাঁশির পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেন, রাফিনিয়া জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু ব্রাজিলের নম্বর ১০-এর মুখে তখন ছিল দীর্ঘ অপূর্ণতার ছাপ। ম্যাচের পর ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, চেষ্টা করেছেন, অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এখন সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলেন, এখানেই শেষ করলেন।

নেইমারের কথার আলাদা গুরুত্ব আছে। কারণ ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়েছিল এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই। সেই ম্যাচে গোলও করেছিলেন তরুণ নেইমার। ১৬ বছর পর সেই একই ভেন্যুতে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন তিনি। কিন্তু এবার গোলটি কোনো নতুন শুরু নয়, বরং বিদায়ের।

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নেইমার শুরু থেকে ছিলেন না। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তখনও ব্রাজিল ম্যাচে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৭৮ মিনিটে প্রথম গোল, ৮৯ মিনিটে দ্বিতীয়। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমার ব্যবধান কমালেও ব্রাজিলকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি।

এই হারের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ ষোলোতেই থামল ব্রাজিলের। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ নকআউটে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে না জেতার ধারাও আরও দীর্ঘ হলো। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার পর এবার সেই তালিকায় নরওয়ে।

নেইমারের ব্যক্তিগত গল্পও এই বিদায়ের সঙ্গে আরও বেদনাদায়ক হয়ে গেল। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬, চারটি বিশ্বকাপ খেলেও তিনি শিরোপা জিততে পারলেন না। থিয়াগো সিলভার পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চার বিশ্বকাপ খেলেও ট্রফি ছাড়াই ফিরতে হলো তাঁকে।

তবে রেকর্ডের খাতায় নেইমারের নাম আলাদা জায়গায় থাকবে। নরওয়ের বিপক্ষে গোল করে তিনি পেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ব্রাজিলের হয়ে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা ফুটবলার এখন শুধু পেলে ও নেইমার। কিন্তু এই কীর্তির রাতও ঢেকে গেছে দলীয় ব্যর্থতা ও ব্যক্তিগত অপূর্ণতার অন্ধকারে।

জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের সংখ্যাগুলো বিশাল। ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে শেষ করলেন তিনি। সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে তার একমাত্র বড় শিরোপা ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপ। ২০১৬ অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটি ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের টুর্নামেন্ট।

নেইমার ব্রাজিলকে অসংখ্য মুহূর্ত দিয়েছেন। ড্রিবল, গোল, কান্না, বিতর্ক, প্রত্যাশা, চোট, প্রত্যাবর্তন, সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এই প্রজন্মের ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ। কিন্তু যে ট্রফির জন্য তাকে সবচেয়ে বেশি বিচার করা হবে, সেই বিশ্বকাপ তাঁর হাতে উঠল না।