স্পাইডারম্যান বিজ্ঞাপনে মেসির ১৮১ কোটি পাওয়ার দাবি কতটা সত্য?

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
স্পাইডারম্যান বিজ্ঞাপনে মেসির ১৮১ কোটি পাওয়ার দাবি কতটা সত্য?
ভাইরাল সেই বিজ্ঞাপন চিত্রের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি কি সত্যিই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি স্পাইডারম্যান বিজ্ঞাপনের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৮১ কোটি টাকা পেয়েছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা যাচ্ছে, মেসির স্পাইডারম্যানের প্রচারণামূলক ভিডিওতে অংশ নেওয়ার তথ্য সত্য। কিন্তু ১৫ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক পাওয়ার দাবির পক্ষে এখনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Advertisement

প্রথমে নিশ্চিত অংশটি বলা যাক। মেসি সত্যিই বিখ্যাত মার্ভেল কমিক চরিত্র স্পাইডারম্যান ফ্রাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে ছবির একটি প্রচারণামূলক ভিডিওতে আছেন। সেখানে তার সঙ্গে আছেন টম হল্যান্ড, যিনি ছবিতে পিটার পার্কার বা স্পাইডারম্যান চরিত্রে অভিনয় করছেন। সনি পিকচার্স ছবিটির প্রচারে মেসি ও টম হল্যান্ডকে নিয়ে একটি ছোট ৪০ সেকেন্ডর প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে।

ভিডিওটির দৃশ্যও বেশ হালকা মেজাজের। মেসিকে দেখা যায় নিউইয়র্কের একটি কফিশপে পিটার পার্কারের সঙ্গে দেখা করতে। মেসি জানান, তিনি স্পাইডারম্যানকে খুঁজছেন। এরপর পিটার পার্কার সরে গিয়ে স্পাইডারম্যান রূপে ফিরে আসেন। পুরো বিষয়টি ছবির মূল গল্প নয়, বরং প্রচারণার অংশ হিসেবেই প্রকাশ করা হয়েছে।

এই প্রচারণা শুধু একটি সাধারণ বিজ্ঞাপন নয়। সনি পিকচার্স ও স্যামসাংয়ের যৌথ প্রচারণায় স্পাইডি ট্র্যাকার নামে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতার অংশ। স্যামসাং জানিয়েছে, এটি স্যামসাং গ্যালাক্সি দ্বারা চালিত একটি অনলাইন অভিজ্ঞতা, যেখানে দর্শকেরা স্পাইডারম্যান সংক্রান্ত উপস্থিতি, অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার, ভিডিও ও প্রচারণামূলক কনটেন্ট অনুসরণ করতে পারেন। এটি ৩৫টি দেশে চালু করা হয়েছে।

কাদেনা সের, কমপ্লেক্স, গোলডটকম, কমিকবুকমুভি এবং স্যামসাংয়ের নিজস্ব ঘোষণায় মেসির প্রচারণামূলক ভিডিও, টম হল্যান্ডের উপস্থিতি এবং স্পাইডি ট্র্যাকার প্রচারণার কথা আছে। ভ্যারাইটি, ডেডলাইন, গেমসরাডারসহ বড় বিনোদনমাধ্যমগুলোও ছবিটির নির্মাণ, নতুন দৃশ্য, টম হল্যান্ডের প্রচারণা ও মুক্তির আগে প্রচার কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত লিখছে। কিন্তু এই বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে মেসির এই বিজ্ঞাপনের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিকের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সমস্যার জায়গা এখানেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মেসি ২০ বা ৪০ সেকেন্ডের এই প্রচারণা থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন। বাংলাদেশি টাকায় সেটি ১৮১ কোটি টাকা।

সনি পিকচার্স, স্যামসাং, মেসির প্রতিনিধি দল, মেজর লিগ সকার, ইন্টার মায়ামি কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো বিনোদন-বাণিজ্য সংবাদমাধ্যম এখন পর্যন্ত বলেনি যে মেসি এই বিজ্ঞাপনের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন। কাদেনা সের ও কমপ্লেক্স ভিডিওটির বিবরণ দিয়েছে, গোলডটকম এটিকে ভাইরাল প্রচারণা বলেছে, স্যামসাং স্পাইডি ট্র্যাকার প্রকল্প ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু কোথাও পারিশ্রমিকের অঙ্ক নেই।

মূলত ইনস্টাগ্রাম ও এক্সের কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে এই দাবি ছড়ায়। তবে মেসি যে ১৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৮১ কোটি টাকা পেয়েছেন, এটি এখনো প্রমাণিত নয়।

মেসির মতো বৈশ্বিক তারকার জন্য বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপন চুক্তি অস্বাভাবিক নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ফোর্বসের হিসাব উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মেসির আয় ছিল ১৩০ মিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই এসেছে মাঠের বাইরের চুক্তি থেকে। অ্যাডিডাস, লেইস, মাস্টারকার্ডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে। তাই মেসি বড় অঙ্কের প্রচারণা চুক্তি করতে পারেন, এটি বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য হওয়া আর নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রমাণিত হওয়া এক জিনিস নয়।

এই স্পাইডারম্যান প্রচারণার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মেসির উপস্থিতি হয়তো বৃহত্তর বৈশ্বিক বিপণন পরিকল্পনার অংশ। সেটি হতে পারে বিজ্ঞাপন পারিশ্রমিক, প্রচারণা চুক্তি, ভাবমূর্তি ব্যবহারের চুক্তি বা ব্র্যান্ড সহযোগিতার অংশ। কিন্তু চুক্তির অঙ্ক প্রকাশ্যে না এলে ১৫ মিলিয়ন ডলারকে সংবাদ হিসেবে সত্য বলা যাবে না।