মেসি জাদুতে আরও রঙিন হোক ফুটবলের পৃথিবী

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মেসি জাদুতে আরও রঙিন হোক ফুটবলের পৃথিবী
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

২৭ জুন, ২০১৬। আমেরিকার নিউ জার্সিতে কোপা আমেরিকা ফাইনাল। টাইব্রেকারে চিলির কাছে হারের পর কান্নায় ভেঙে পড়লেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে টানা চারটি বড় ফাইনালে হার। সেই বেদনা এতটাই গভীর ছিল যে, চোখের পানি শুকানোর আগেই সবাইকে চমকে দিয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন তাকে নিয়ে লিখে রেখেছিল ভিন্ন এক গল্প।

Advertisement

সমালোচনা আর মানসিক চাপের সঙ্গে লড়াইয়ের অধ্যায় পেরিয়ে মেসি ফিরে আসেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে। দ্বিতীয় ইনিংসে মেসি হাঁটেন সাফল্যের নতুন দিগন্তে। ঘটে রূপকথার মতো উত্থান। ভক্তরা যেভাবে চেয়েছিলেন দেখতে ঠিক সেভাবেই আবির্ভূত হন মেসি। সাফল্যের মুকুটে যোগ হতে থাকে একের পর এক নতুন পালক। হয়ে ওঠেন ফুটবল মহাকাব্যের নায়ক। ৩৯ বছর বয়সেও দাঁড়িয়েও সাফল্যের মালাগাঁথায় রেকর্ডবুক ভেঙে-চুড়ে পাচ্ছেন ‘সর্বকালের সেরা’র ট্যাগও। অথচ হতাশায় ডুবে কত আগেই না নিভে যেতে পারতো মেসি নামের উজ্জ্বল প্রদীপটি।

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় ছিল দেশের হয়ে তার প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি। ২০২২ সালে স্বপ্নের বিশ্বকাপ জয় মেসিকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। আর এবারের বিশ্বকাপে তো ২ ম্যাচ খেলেই সর্বোচ্চ গোলদাতাও বণে গেলেন বিস্ময়কর পায়ের জাদুতে।

তবে মেসির শ্রেষ্ঠত্ব কেবলই পায়ের জাদুতে নয়, চরিত্রেও। মাঠ ও মাঠের বাইরে এই মহাতারকার আচরণ অনুসরণীয়। মেসি এখন শুধু আর্জেন্টিনার-ই নয় ফুটবল বিশ্বেরই এক ধুমকেতু। শতাব্দীতেও এমন একজন তারকাকে পৃথিবীতে পাওয়াও যেন বিরল।

দল-মত নির্বিশেষে সবখানেই এখন মেসির জয়গান। সাফল্যের মালায় নিজেকে নিয়ে গেছেন বিতর্কের উর্ধ্বে। একসময় যিনি চোখের পানিতে বিদায় জানিয়েছিলেন জাতীয় দলকে, আজ তিনিই ফুটবল বিশ্বের মহানায়ক। ফুটবল আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা। জন্মদিনে শুভেচ্ছা, ভালোবাসা…. লিওলেন মেসি।