বহিষ্কারের পর বিএনপিতে ফেরা এমপি ফখর উদ্দিনকে শোকজ

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিএনপি।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে ফখর উদ্দিন আহমেদের কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়। এতে অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
শোকজ চিঠিতে বলা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে আপনাকে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কৃত অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত বহিষ্কারাদেশ গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রত্যাহার করে আপনার প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি ও আপনার ঘনিষ্ঠ লোকজন আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নানা ধরনের অনৈতিক অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ভালুকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল ফখর উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। দুই বছর আগে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সময়ও তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর তিনি দলীয় পদে পুনর্বহাল হন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, আমার এলাকায় কোনো সমস্যা নেই, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। গত সাড়ে চার-পাঁচ মাসে যদি দখল বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটত, তাহলে তা অবশ্যই গণমাধ্যমের নজরে আসত। কারখানা দখলের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে কোনো কারখানার ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। আবার কোনো কারখানা থেকে পণ্য বের করতেও নির্ধারিত গেটপাস, ওয়ার্ক অর্ডার ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। তাই জোর করে কারখানা দখল বা পণ্য নেওয়ার সুযোগই নেই। শোকজের বিষয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি হাতে পাননি, তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন।
এদিকে ভালুকা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্দেশে তার লোকজন আমার ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দিয়ে আসছে। তার ইন্ধনে দুটি মিথ্যা মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে এবং আমার নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
অবশ্য মোর্শেদ আলমের এই অভিযোগ অস্বীকার করে ফখর উদ্দিন বাচ্চু বলেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রেষারেষি, এর পেছনে তার কোনো ইন্ধন নেই।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছেন। দলের ভেতরে বা বাইরে যাদের বিরুদ্ধেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠবে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






