Advertisement

রাতে পায়ে টান ধরা শুধু ক্লান্তি নয়, হতে পারে এসব রোগের লক্ষণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রাতে পায়ে টান ধরা শুধু ক্লান্তি নয়, হতে পারে এসব রোগের লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। বেশির ভাগ সময় এটি ক্ষণস্থায়ী হলেও, বারবার এমন হলে বিষয়টি শুধু অস্বস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রাতের বেলা পায়ে টান ধরা কখনো কখনো ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, স্নায়ুর সমস্যা বা রক্ত সঞ্চালনের জটিলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই সমস্যাটি বারবার দেখা দিলে সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে এর কারণ জানা প্রয়োজন।

রাতে পায়ে টান ধরার নির্দিষ্ট কারণ সব সময় জানা যায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বিষয় এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে পেশির অতিরিক্ত ক্লান্তি, স্নায়ুর কার্যক্রমে পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, শরীরে পানির ঘাটতি, বয়স বাড়া, নারীদের গর্ভাবস্থা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

কোন কোন রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে?

রাতে ঘন ঘন পায়ে টান ধরলে সেটি কখনো কখনো কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের লক্ষণও হতে পারে। যথা-

ডায়াবেটিস: দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে রাতে পায়ে টান ধরা, ঝিনঝিনি ভাব বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।

কিডনির রোগ: দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে শরীরের খনিজ উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে পেশিতে টান ধরার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা: পায়ের পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছালে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে পেশিতে টান বা ব্যথা দেখা দিতে পারে।

স্নায়ুর রোগ: পার্কিনসনস রোগ বা পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির মতো স্নায়বিক সমস্যার ক্ষেত্রেও রাতে পায়ে টান ধরতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা: হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো থাইরয়েডের রোগেও পেশির ব্যথা ও টান দেখা দিতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা হাঁটাহাঁটি করে কাজ করেন যারা, নিয়মিত ব্যায়াম করেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেন না যারা, ডায়াবেটিস, কিডনি বা স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

পায়ে টান ধরলে কী করবেন?

পায়ে টান ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে আক্রান্ত পেশি ধীরে ধীরে প্রসারিত করুন। পায়ের আঙুল নিজের শরীরের দিকে টেনে ধরলে অনেক সময় দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। পাশাপাশি আক্রান্ত স্থানে হালকা মালিশ করতে পারেন বা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে পেশি শিথিল হতে সাহায্য করে। গরম সেঁকও উপকার দিতে পারে।

এ সমস্যা কমাবেন কীভাবে

সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং নিয়মিত পায়ের পেশি স্ট্রেচিং করুন। মাঝে মাঝে ব্রেক নিন ও হাটুন, দীর্ঘ সময় একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। ব্যায়ামের আগে ও পরে ওয়ার্ম আপ এবং কুল ডাউন করুন এবং আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।

এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খনিজ বা ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি সপ্তাহে বারবার পায়ে টান ধরে, ব্যথা দীর্ঘ সময় থাকে, পা ফুলে যায়, পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে বা ঝিনঝিনি ভাব অনুভূত হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, কিডনি বা স্নায়ুর রোগ থাকলে নিয়মিত এমন সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়।

রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরা অনেক সময় সাধারণ একটি সমস্যা হলেও বারবার ঘটলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। এটি কখনো কখনো ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বা স্নায়বিক রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই সমস্যা যদি নিয়মিত হয় বা অন্য উপসর্গও দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র : এবিপি নিউজ